খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কিংবদন্তি গায়িকা ফরিদা পারভীনের মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে, এমনটাই জানিয়েছে তার পরিবার। এরপর তাকে কুষ্টিয়ায় তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার মরদেহ রাত থেকে তেজগাঁওয়ের নিজ বাড়িতে রাখা হবে। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল বলেন, “মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা তাকে কুষ্টিয়াতেই দাফন করব।” তার মেয়ে জিহান ফারিয়া বলেন, “মা অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। কুষ্টিয়ায় যাওয়ার এটাই ছিল তার শেষ ইচ্ছা।” তিনি তার বাবা-মায়ের কবরের পাশেই দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ফরিদা পারভীনকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছর তিনবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৫৫ বছর ধরে গান গেয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে তার পেশাদার সংগীতজীবনের শুরু। এরপর তার জীবনের পথচলায় অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। পারিবারিকভাবেই তিনি গানের জগতে এসেছিলেন। তার বাবা এবং দাদিও গান গাইতেন। বাবার চাকরির কারণে তাকে বিভিন্ন জেলায় থাকতে হয়েছে।
ফরিদা পারভীনের সংগীত জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৮ সালে, রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনগীতির তালিম নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে লালনগীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সংগীতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক পান।
এছাড়াও, ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি জাপানের ফুকুওকা পুরস্কারও লাভ করেন। লালনশিল্পী হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিতি পেলেও, তার কণ্ঠে বেশ কিছু আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
খবরওয়ালা/টিএসএন