খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত চারজন আহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণভাবে উড়ে যায় এবং ভবনের ছাদ ও বিমে মারাত্মক ফাটল দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, ক্রাইম সিন ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, “আমরা ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের ভবন কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, “দুটি কক্ষের দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়ে। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। মনে হচ্ছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসাটিতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক/পরিচয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| শেখ আল আমিন | ৩২ | মাদ্রাসার পরিচালক | আহত |
| আছিয়া বেগম | ২৮ | আল আমিনের স্ত্রী | ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি |
| উমায়েত | ১০ | সন্তান | ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি |
| আবদুল্লাহ | ৭ | সন্তান | ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি |
আহতদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও তাঁর দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং অপর পাশে একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ বসবাস করতেন। পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির জানান, বিস্ফোরণের প্রভাবে তাঁদের ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে এবং ঘরের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভবনমালিক পারভীন বেগম বলেন, “তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে এখানে মাদ্রাসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। আমি কখনো ভাবিনি, এর আড়ালে এমন কিছু হতে পারে।” তিনি জানান, পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্ফোরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করেছে।