খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২২ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অস্থায়ী ১১টি গবাদিপশুর হাটের মধ্যে ৮টি হাটের ইজারাদার চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এবার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ইজারা প্রদান স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ আলোড়ন তুলেছে।
সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন বালুর মাঠের ইজারা। এখানে স্থানীয় বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের টেক্কা দিয়ে ইজারা পেয়েছে নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এনসিপির প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ বকুল ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়ে এ হাটের ইজারা পান।
বুধবার (২১ মে) বিকাল ৩টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকাশ্য দরপত্রের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়া জানান, ৮টি হাটের ইজারায় মোট রাজস্ব এসেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাকি ৩টি হাটে কোনো সিডিউল না জমা পড়ায় সেগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা কার্যালয়ে জমে ওঠে ভিড়। বিএনপি ও এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
চূড়ান্ত হওয়া হাটগুলোর ইজারাপ্রাপ্তরা হলেন খাড়াকান্দি বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠ – আবু দাউদ সিকদার (২ লাখ টাকা), নতুন সোনাকান্দা পশু হাট – শাহাবুদ্দিন মেম্বার (৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা), মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন বালুর মাঠ – রাব্বি আহমেদ বকুল (৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), রাজাবাড়ি সংলগ্ন পতিত জমি – জাহাঙ্গীর কবির (৩০ হাজার টাকা), রসুলপুর বালুর মাঠ – ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম (৪ লাখ ২০ হাজার টাকা), হাসনাবাদ বালু মাঠ – সেলিম মেম্বার (৬১ লাখ টাকা), আগানগর খেলার মাঠ – আরসাদ রহমান সপু (১ কোটি ৭০ লাখ টাকা), জিনজিরা পশু হাট – মোসাদ্দেক আলী বাবু (১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা)।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ইমরান হোসেন বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এনসিপি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। এই হাট পরিচালনার মাধ্যমে আমরা স্বচ্ছতা ও দক্ষতা প্রমাণ করব।’
অন্যদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ আলম স্বাধীন জানান, তিনি ৯ লাখ টাকা বেশি দর দিলেও ইজারার শর্ত পূরণ না হওয়ায় তার দরপত্র বাতিল করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হলেও পরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা জানান।
ইউএনও রিনাত ফৌজিয়া বলেন, ‘হাটগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভেটেরিনারি টিম ও মনিটরিং কমিটি। স্বাস্থ্যবিধি ও যানজট নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নজরদারি থাকবে।’
খবরওয়ালা/আরডি