খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে এগারো সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বর্তমান নিয়ম ও গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকগণ নির্বাচিত হবেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের সমন্বয়ে একটি নতুন এবং স্থায়ী পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং ক্রিকেট বোর্ডের অর্থ উপ-কমিটির প্রধান ইসরাফিল খসরু দেশের ক্রিকেটে কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব ধারণকৃত ধারাবাহিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। ইসরাফিল খসরু উল্লেখ করেন যে, দেশের ক্রিকেটে অচিরেই স্থায়িত্ব আসবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন হলেও, একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই স্থায়িত্ব আসা অত্যন্ত জরুরি।
তাঁর মতে, ক্রিকেট বোর্ডের মূল কাজ এবং দায়িত্বগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সহজ। বোর্ডের প্রধানতম দায়িত্ব হলো খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, ক্রীড়া অবকাঠামো বা মাঠ ও অনুশীলন কেন্দ্রগুলো উন্নত করা এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা। এই মৌলিক নীতিগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবেই এই ক্রিকেট বোর্ড প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের ক্রিকেট বোর্ডে রূপান্তরিত হবে। কারণ, এই ক্রীড়া সংস্থাটি কোনো সুনির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট মূলত দেশের সাধারণ জনগণের এবং ক্রিকেট খেলাটির প্রতি ভালোবাসা এ দেশের মানুষের অস্থি-মজ্জায় মিশে রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিচে একটি সারণির মাধ্যমে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| পরিচালনা পর্ষদের ধরন | কমিটির সদস্য সংখ্যা | বর্তমান সভাপতির নাম | ভবিষ্যৎ নির্বাচনের তারিখ | বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য |
| অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি | ১১ জন | তামিম ইকবাল | ৭ জুন, ২০২৬ | খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা |
ক্রিকেট বোর্ডের স্থায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ইসরাফিল খসরু বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো বা আধুনিক একাডেমি এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বর্তমান বোর্ড এই সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতাকে স্বীকার করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে হলে আরও উন্নত মানের একাডেমি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচুর খেলার মাঠ প্রয়োজন।
ক্রিকেটকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত খেলা আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অনেক অঞ্চলে বা বিভাগে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ক্রিকেট লিগ বা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যদি নিয়মিত মাঠের খেলা বন্ধ থাকে, তবে দেশের ক্রিকেট কাঠামোর ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এই কারণে বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট এবং স্থানীয় স্তরের বিভিন্ন লিগগুলো নিয়মিত মাঠে গড়ানো আবশ্যক। বিসিবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মাঠগুলোর আধুনিকায়ন করা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা, যাতে অনায়াসে খেলাধুলা সচল রাখা যায়। এই সমস্ত দাপ্তরিক ও মাঠের বিষয়গুলো একটির সাথে আরেকটি নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।
ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের আর্থিক বকেয়া প্রসঙ্গে ইসরাফিল খসরু বর্তমান বোর্ডের দৃঢ় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দেখা যায় যে, পূর্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের একটি বড় অঙ্কের আর্থিক বকেয়া পড়ে ছিল। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দ্রুততার সাথে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের সেই সমস্ত বকেয়া পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন যে, মূল খেলোয়াড়দের অধিকার খর্ব করে বা তাঁদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের ন্যায্য পাওনা এবং প্রাপ্য অধিকার সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়া বোর্ডের প্রধান कर्तव्य। বোর্ড যখন খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ায় এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, তখন খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে মানসিকভাবে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হন। এর ফলে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না এবং তাঁরা সম্পূর্ণ মনোযোগ কেবল নিজেদের খেলার ওপর নিবদ্ধ রাখতে পারেন। ক্রিকেট বোর্ডের মূল দায়িত্বই হলো খেলোয়াড়দের চাহিদা পূরণ করা। খেলোয়াড়দের যেকোনো সমস্যা বা অভাবের কথা সরাসরি বোর্ডকে জানানো উচিত এবং বোর্ডের পক্ষ থেকেও সর্বদা খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।