খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় এখন এক নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে। আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তর্কে। বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক এই ঘটনাকে সস্তা ‘রাজনৈতিক কার্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সৈয়দ আশরাফুল হকের মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে বিসিসিআই যেভাবে নতিস্বীকার করে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে, তাকে তিনি আসন্ন ভোটের মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। তাঁর প্রশ্ন হলো, মোস্তাফিজের বদলে যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মতো অন্য ধর্মের কেউ থাকতেন, তবে কি বিসিসিআই একই সিদ্ধান্ত নিত? তাঁর ভাষায়, এটি নিছক ধর্মীয় আবেগ নিয়ে রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছু নয়।
নিচে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও মূল ঘটনাবলি একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও মন্তব্য |
|---|---|
| মূল বিতর্ক | উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ। |
| রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা | পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট ব্যাংক। |
| বিসিবির অবস্থান | আইসিসির কাছে ভারতের বদলে বিকল্প ভেন্যুর দাবি। |
| সৈয়দ আশরাফুলের মন্তব্য | ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন এখন অপেশাদারদের দখলে। |
| জয় শাহ প্রসঙ্গে | প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তির নেতৃত্ব। |
| আসিফ নজরুলের অবস্থান | ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় সিদ্ধান্ত। |
| সম্ভাব্য সমাধান | বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব। |
ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনীতিকদের আধিপত্য
সৈয়দ আশরাফুল হক ক্রিকেট ইকোসিস্টেম রাজনীতিবিদদের হাতে ‘হাইজ্যাক’ হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ভারতের জয় শাহ এবং বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন যে, এঁদের কারোরই মাঠের ক্রিকেটে বা ক্রিকেট প্রশাসনে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জগমোহন ডালমিয়া বা মাধবরাও সিন্ধিয়ার মতো বিচক্ষণ ব্যক্তিত্বদের কথা, যাঁদের সময়ে ক্রিকেট কখনোই সস্তা রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়নি।
জাতীয় মর্যাদা বনাম আর্থিক ক্ষতি
ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে অটল অবস্থানে রয়েছেন। আশরাফুল মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য টাকার চেয়ে জাতীয় মর্যাদাই বড়। যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়, তবেই একটি সম্মানজনক সমাধান সম্ভব। অন্যথায়, বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে খেলতে না গেলে বিশ্ব ক্রিকেটে এক বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে এবং আইসিসি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।