এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলার আকাশে স্বাধীনতার প্রথম রক্তিম সূর্যোদয়ের দূত ছিলেন এক কিশোর—ক্ষুদিরাম বসু। বয়সে তরুণ, কিন্তু সাহসে অদম্য; হৃদয়ে জ্বলছিল মাতৃভূমিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার দৃপ্ত শপথ।
১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে তাঁর জন্ম। শৈশবেই তিনি শুনেছিলেন পরাধীনতার গল্প, আর বুকের ভেতর জমেছিল মুক্তির স্বপ্ন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বই-খাতা ছেড়ে হাতে তুলে নেন স্বাধীনতার অস্ত্র, যোগ দেন সত্যেন বসুর নেতৃত্বাধীন অনুশীলন সমিতিতে। সেখানে তিনি শিখেছিলেন শারীরিক কসরত, রাজনৈতিক আদর্শ ও অস্ত্র চালনার কৌশল—সবই মাতৃভূমির মুক্তির জন্য।
ক্ষুদিরাম ছিলেন সাহসী কর্মী। বিদেশি কাপড় পুড়িয়ে দেওয়া, আমদানিকৃত লবণবোঝাই নৌকা ডোবানো থেকে শুরু করে বোমা বিস্ফোরণ পর্যন্ত সবখানেই তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯০৮ সালে অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার দায়িত্ব পান তিনি ও প্রফুল্ল চাকী। ৩০ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে তারা ছুড়ে দেন বোমা, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিংসফোর্ড বেঁচে যান, প্রাণ হারান ব্রিটিশ অফিসার প্রিঙ্গল কেনেডির স্ত্রী ও মেয়ে।
প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করেন, আর ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি ছিলেন অটল, গর্বিত, অবিচল। বিচারে সমস্ত দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি বলেছিলেন—
‘দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার এই জীবন কিছুই নয়।’
১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ভোরে, মাত্র ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন বয়সে, হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে পা রাখেন ক্ষুদিরাম বসু। সেই হাসি আজও বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে অমলিন প্রতীক হয়ে আছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি-ক্ষুদিরাম বসু, তুমি প্রমাণ করে গেছো, স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে বয়স কোনো বাধা নয়; সাহস, আত্মত্যাগ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসাই সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড