খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সীমানার ভেতরে থাকা সরকারি ‘মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার’ দখল করে সেটিকে ‘শহিদ মীর মুগ্ধ হল’ নামে আবাসিক হল ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে খামারের নামফলকের ওপর নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হাদি চত্বরে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিলসহ খামার কার্যালয়ে যান। সেখানে সমাবেশ শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ মিনিট সময় দিয়ে ভবন ছাড়তে বলা হয়। তারা চলে গেলে শিক্ষার্থীরা মূল ভবনে ‘শহিদ মীর মুগ্ধ হল’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দেন— “দাবি নয়, অধিকার— মৎস্য ভবন দরকার।” বিকেল ২টা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১০.৩৫ একর আয়তনের এ খামার মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় থাকলেও এটি খুবির জমির ভেতরে অবস্থিত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকলেও আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৩০ শতাংশ। পাঁচটি হল থাকায় অনেকেই আবাসন বঞ্চিত হচ্ছেন। গবেষণাগার সম্প্রসারণ ও মাঠ গবেষণার ক্ষেত্রেও জমির অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শিক্ষার্থীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষা ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জমি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করে। চলতি বছরের মার্চে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে এখনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি। হস্তান্তরের জন্য শিক্ষা ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রয়োজন। আপসে নাকি ক্ষতিপূরণ দিয়ে হস্তান্তর হবে, তা ঠিক করতে হবে। অধিগ্রহণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে। মূল্য নির্ধারণসহ প্রক্রিয়া তখন শুরু হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
খবরওয়ালা/এমএজেড