খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মঞ্জু মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটকের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছেন। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানা হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে ওই শিশুটি তার নিজ বাসভবনের সংলগ্ন একটি নলকূপের সামনে একাকী দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মঞ্জু মিয়া পানি পান করার অজুহাত দেখিয়ে শিশুটির কাছাকাছি যান। এরপর তিনি আকস্মিকভাবে শিশুটিকে জোরপূর্বক জাপটে ধরেন এবং তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ঠিক সেই মুহূর্তেই শিশুটির মা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালানোর চেষ্টা করলেও উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়াক আটক করেন। পরে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে ঘটনাস্থলেই গণধোলাই দেন এবং গজারিয়া থানা পুলিশকে সংবাদ প্রদান করেন।
| বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত |
| ঘটনাস্থল | নয়াকান্দি গ্রাম, ভবেরচর ইউনিয়ন, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ |
| ঘটনার সময় | ৮ জুন, সোমবার (সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা) |
| ভুক্তভোগী | ৫ বছর বয়সী কন্যা শিশু |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মঞ্জু মিয়া (৩৫), পিতা: দেলোয়ার হোসেন |
| অভিযুক্তের কর্মস্থল | আলিফ কাচ্চি অ্যান্ড হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, ভবেরচর ঈদগাহ এলাকা |
| অভিযুক্তের ঠিকানা | পৈতৃক নিবাস: করিমখাঁ গ্রাম (ইমামপুর); বর্তমান বসবাস: নারায়ণগঞ্জ |
| আইনি বর্তমান অবস্থা | গণধোলাইয়ের পর উদ্ধার, চিকিৎসা শেষে পুলিশ হেফাজতে আটক |
গণধোলাই ও পুলিশের কাছে সোপর্দ হওয়ার পর অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি বিগত প্রায় দুই মাস ধরে ভবেরচর ঈদগাহ এলাকায় অবস্থিত ‘আলিফ কাচ্চি অ্যান্ড হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট’ নামক একটি খাবারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে রেস্টুরেন্টের নৈশকালীন ডিউটি বা কর্মঘণ্টা শেষ করে তিনি নয়াকান্দি গ্রামের সড়ক ধরে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হাঁটার একপর্যায়ে রাস্তার পাশে একটি নলকূপের কাছে শিশুটিকে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি কেবল তার নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। কোনো প্রকার অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং নাম জিজ্ঞেস করার পরপরই স্থানীয় লোকজন কোনো কিছু না বুঝেই তাকে মারধর শুরু করে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত নয়াকান্দি গ্রামে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত স্থানীয় জনতার হেফাজত থেকে মারধরের শিকার অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়াকে উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়।
এসআই মো. ফিরোজ মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, গণধোলাইয়ে আহত হওয়ায় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তকে প্রথমে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তাকে গজারিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটির সার্বিক বিবরণ ও অভিযোগের বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সুনির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।