খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত ৫ প্রকৌশলী ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের ১ স্থপতি কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় বরখাস্ত হয়েছেন। ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’—এর অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লা আল মামুন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোছা. রাহানুমা তাজনীন, নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহানা আহমেদ, সহকারী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহকারী স্থপতি শিরাজী তারিকুল ইসলাম রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’—এর অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এবং সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশের মাধ্যমে এ সকল কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
বিশেষত, মনিরুজ্জামান মনি কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মঞ্জুরিকৃত প্রেষণ ও ছুটির পর ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনুমতি বিহীনভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই, তাঁকে ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বরখাস্ত করা হয়।
আবদুল্লা আল মামুন ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়ন করতে প্রেষণ পেয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে ১৫ মে ২০২৫ তারিখে বরখাস্ত করা হয়।
মোছা. রাহানুমা তাজনীন ২০২১ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব ওয়োমিংয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে পড়াশোনা করতে প্রেষণ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রেষণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
ফারহানা আহমেদ রিয়ারসন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোর্সে অধ্যয়নের জন্য ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন, তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁকেও বরখাস্ত করা হয়।
মফিজুল ইসলাম ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডাতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এমএস কোর্সে অধ্যয়ন করতে প্রেষণ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রেষণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, ফলে ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে বরখাস্ত করা হয়।
অবশেষে, শিরাজী তারিকুল ইসলাম ২০২২ সালের ১২ মে থেকে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই, ২১ মে ২০২৫ তারিখে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
এভাবে, সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এই ৬ জন কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি