খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গলায় কলা আটকে ইব্রাহিম মিয়া নামের মাত্র দুই বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ছোট্ট এই শিশুটির অকাল প্রয়াণে পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত ইব্রাহিম মিয়া ওই এলাকার অটোরিকশাচালক সুজন মিয়ার একমাত্র সন্তান। তার মা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ইব্রাহিম তার নানীর কাছে খাওয়ার জন্য একটি কলা চায়। নানী তাকে কলাটি দিলে সে তা খেতে শুরু করে। খাওয়ার এক পর্যায়ে কলার একটি বড় অংশ হঠাৎ করে শিশুটির শ্বাসনালীতে আটকে যায়।
কলা আটকে যাওয়ার পর শিশুটি প্রচণ্ড ছটফট শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কলাটি বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু শিশুটির শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে তাকে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহত শিশুর নাম | ইব্রাহিম মিয়া |
| বয়স | ২ বছর |
| পিতার নাম ও পেশা | সুজন মিয়া (অটোরিকশাচালক) |
| ঘটনার সময় | বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বিকেল ৫টা) |
| ঘটনাস্থল | মহাদেবপুর, শিবালয়, মানিকগঞ্জ |
| মৃত্যুর কারণ | গলায় কলা আটকে শ্বাসরোধ (Choking) |
| হাসপাতাল | মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
পরিবারে শোকের মাতম
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা সুজন মিয়া ও মা এখন বাকরুদ্ধ। তাঁদের আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পোশাক কারখানায় কর্মরত মা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সন্তানের নিথর দেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রতিবেশী আকাশ চৌধুরী জানান, ইব্রাহিম খুব চঞ্চল ছিল। এমন একটি তুচ্ছ ঘটনায় যে শিশুটির প্রাণ চলে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও করণীয়
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শ্বাসনালী অত্যন্ত সরু থাকে। যেকোনো শক্ত বা পিচ্ছিল খাবার খাওয়ার সময় তা যদি সঠিকভাবে চিবিয়ে না খাওয়া হয়, তবে তা শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘চোকিং’ (Choking) বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা ছোট শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন:
শিশুকে কখনোই একা খাবার খেতে দেওয়া উচিত নয়।
বড় ফল বা খাবার ছোট ছোট টুকরো করে দিতে হবে।
খাবার সময় শিশু যাতে দৌড়াদৌড়ি বা হাসাহাসি না করে সেদিকে খেয়াল রাখা।
গলায় কিছু আটকে গেলে তৎক্ষণাৎ ‘হেমলিচ ম্যানুভার’ -এর মতো প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অভিভাবকদের জ্ঞান থাকা জরুরি।
ইব্রাহিমের এই করুণ মৃত্যু আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, ছোট শিশুদের লালন-পালনে সামান্য অসতর্কতা কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।