খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার পরের সকালে একটি উঁচু তেঁতুলগাছের ডাল থেকে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারী গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দশটার দিকে হঠাৎ নিখোঁজ হন। তিনি গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সাইদের স্ত্রী। রাতেই পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে পরিবারে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরপাড়ের পাশে একটি উঁচু তেঁতুলগাছের মগডালে তাঁকে দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি কখনো বসা, কখনো শোয়া অবস্থায় ছিলেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। গাছের ডালে থাকা অবস্থায় তাঁকে কিছু খেতে দেখা যায় বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকর্মী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। তবে প্রথম দিকে তিনি নিচে নামতে বা কারও সহযোগিতা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং পানিতে লাফ দেওয়ার মতো আচরণের হুমকি দেন বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা। পরে দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও কৌশলের মাধ্যমে তাঁকে নিরাপদে গাছ থেকে নামানো সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিকভাবে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কীভাবে তিনি গাছে উঠলেন এবং রাতভর সেখানে কীভাবে অবস্থান করলেন—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবার বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টা | গৃহবধূ নিখোঁজ হন |
| রাতভর | পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন |
| বুধবার সকাল | স্থানীয়রা তেঁতুলগাছের মগডালে তাঁকে দেখতে পান |
| সকাল পরবর্তী সময় | অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকর্মী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে |
| কিছুক্ষণ পর | কৌশলে তাঁকে নিরাপদে গাছ থেকে নামানো হয় |
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আগে খুব কমই ঘটেছে, ফলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে মানসিক বা অস্বাভাবিক আচরণের ফল বলে ধারণা করছেন, তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে।