খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিনভর চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবু লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এই এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে পরিচিত ছিল এবং এখানে হাজারো পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। একই দিনে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় চালানো আরেকটি বোমা হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারান। মধ্য গাজার বুরেইজ ও নুসাইরাত শরণার্থী শিবির এলাকাতেও বিমান ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে নিহত হয় ১১ বছর বয়সী কন্যাশিশু হামসা হুসু। তার চাচা খামিস হুসু জানান, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। তিনি বলেন, “আমি দেখি হামসা মেঝেতে পড়ে আছে, তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।” এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গত বছরের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি পক্ষ। ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) বৃহস্পতিবারের হামলাকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার মাধ্যমে গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে দখলদার রাষ্ট্র।
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪২৫ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,২০৬ জন। নিহত ও আহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু।
নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে গাজাজুড়ে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা বারবার সতর্ক করলেও গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ, খাদ্য ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এর মধ্যে শীতকালীন ঝড় ও তীব্র ঠান্ডা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
নিচের ছকে সাম্প্রতিক হতাহত ও মানবিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা / তথ্য |
|---|---|
| বৃহস্পতিবার নিহত | ১৪ জন |
| নিহত শিশু | ৫ জন |
| ১১ অক্টোবরের পর মোট নিহত | ৪২৫ জন |
| মোট আহত | ১,২০৬ জন |
| বাস্তুচ্যুত পরিবার | কয়েক লাখ |
ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা গাজায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে, আর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।