খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজার ধ্বংসস্তূপে মোড়া রাস্তাগুলোর মাঝে বারো বছরের আবদুর রহমান আল-নাশাশ তার জীবনকে ধরে রাখছে ওদের (Oud) সুরের মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী এই লুট তার স্থায়ী সঙ্গী এবং মানসিক সহনশীলতার উৎস হয়ে উঠেছে। এক নৃশংস ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আল-রাজি স্কুলে নিহত হন, আর আবদুর রহমান নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন, যার ফলে তার একটি পা কেটে নিতে হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি ঘনবসতিপূর্ণ বুর্জ শরণার্থী শিবিরে ফিরে আসেন, যেখানে পুনর্বাসন এবং চলমান সংঘাতের ছায়ায় জীবন চলছেই।
আবদুর রহমানের ওদে সঙ্গের সূত্রপাত তার শৈশব থেকেই। বাবা তাকে উপহার দিয়েছিলেন এবং নিজে বাজানো শেখাতেন, যা অস্থির বিশ্বের মাঝে ছোট্ট স্বাভাবিকতার অনুভূতি উপহার দিত। সঙ্গীত তার দৈনন্দিন কষ্টের মধ্যে অস্থির আশ্রয় ছিল। হামলার পরেও, গভীর শোক এবং শারীরিক ব্যথা সত্ত্বেও, আবদুর রহমান সঙ্গীতে মানসিক শিথিলতা খুঁজে পাচ্ছেন। ওদের মেলানকলি সুরে তার দুঃখের সাথে ভবিষ্যতের প্রত্যাশাও ফুটে উঠছে।
বর্তমানে বুর্জ শিবিরে তার সঙ্গীত প্রতিভা পুনরায় বিকশিত হচ্ছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আনাদলু এজেন্সির ফটোগ্রাফ দেখাচ্ছে আবদুর রহমানকে বন্ধুদের সঙ্গে পরিবেশনা করতে—ধ্বংসের মাঝে শিশুদের অধ্যবসায়ের বিরল চিত্র। জর্ডানে চিকিৎসার সময় তিনি প্রস্থেটিক পা পেয়েছিলেন, কিন্তু বাবার প্রিয় ওদে সঙ্গে রাখতে পারেননি। বুর্জে ফিরে এসে একজন স্থানীয় শিক্ষক তার প্রতিভা দেখার পর নতুন একটি ওদে উপহার দেন, যা তার শিল্পী আত্মাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
বুর্জ শিবিরে জীবন অত্যন্ত কঠিন। হাজার হাজার ফিলিস্তিনীয় পরিবার দীর্ঘ সময়ের স্থানচ্যুতি এবং অবরোধের কারণে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। পুনরাবৃত্ত হামলা মানবিক সংকট আরও তীব্র করছে, দৈনন্দিন বেঁচে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিম্নলিখিত টেবিলটি গাজার সাম্প্রতিক সহিংসতার toll সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে:
| ঘটনা | সংখ্যা / পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ফিলিস্তিনি নিহত | 71,400+ | বেশিরভাগ নারী ও শিশু |
| ফিলিস্তিনি আহত | 171,300+ | গুরুতর আঘাতের সঠিক সংখ্যা অজানা |
| যুদ্ধবিরতি ঘোষণা | ১০ অক্টোবর ২০২৩ | কিছু এলাকায় এখনও হামলা চলছে |
| বুর্জে শরণার্থী পরিবার | হাজার হাজার | চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে |
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজায় ব্যাপক ধ্বংস সৃষ্টি হয়েছে। দৈনন্দিন জীবন সীমিত, মানসিকভাবে চাপপূর্ণ এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। আবদুর রহমানের মতো শিশুদের জন্য, সঙ্গীত শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের এক রূপ—ধৈর্য, স্মৃতি এবং আশা বহন করে। তার ওদে শুধু শোকের প্রতিধ্বনি নয়, বরং জীবনের অদম্য মনোবল ও সহনশীলতার প্রতীক, যা দেখায় যে অন্ধকারতম মুহূর্তেও মানব সাহস টিকে থাকতে পারে।