খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজিয়াবাদে সম্প্রতি তিন বোনের রহস্যময় মৃত্যু নতুন মোড় নিয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও নিশিকা (১৬) নামের এই তিন বোন বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্সের নবম তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ হারান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বাবা-মা তাদের অনলাইন কোরীয় গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন এবং মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মেয়েরা ঘরের ভিতরে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা থেকে একে একে লাফ দিয়েছিলেন।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, তাদের বাবা চেতন কুমার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারী এবং বর্তমানে তিনজন স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে দুই কোটি রুপির ঋণ রয়েছে। পূর্বে তিনি বিদ্যুৎ বিলের জন্য মেয়েদের মোবাইল বিক্রি করলেও তাদের স্কুল পাঠানো বন্ধ করেছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চেতন কুমারের সঙ্গে ২০১৫ সালে সাহিবাবাদ এলাকার রাজেন্দ্র নগর কলোনির একটি ফ্ল্যাটে ঘটেছিল এক আত্মহত্যার ঘটনা। তখন কুমারের ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের নারীর মৃত্যু ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ঘটে, যা আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হয়। এই ঘটনা বর্তমানে তিন বোনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র হিসেবে পুনঃতদন্তের আওতায় এসেছে।
পুলিশের উপকমিশনার নিমিষ প্যাটেল বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে, পারিবারিক পরিস্থিতি ও মানসিক চাপ তিন বোনের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে।”
তিন বোন কোরীয় সংস্কৃতি ও অনলাইন গেমের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। তাদের আট পৃষ্ঠার ছোট ডায়েরিতে লেখা রয়েছে পারিবারিক অশান্তি ও কোরীয় গেমের প্রতি গভীর ভালোবাসা। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, তারা এমন একটি গেম খেলে আত্মহত্যার চরম ধাপে পৌঁছেছে।
চেতন কুমারের পারিবারিক অবস্থা ও মেয়েদের তথ্য:
| নাম | বয়স | মা | Remarks |
|---|---|---|---|
| নিশিকা | 16 | সুজাতা | বড় কন্যা |
| প্রাচী | 14 | হীনা | মাঝখানের কন্যা |
| পাখি | 12 | হীনা | ছোট কন্যা |
| দেবু | 4 | টিনা | কুমারের তৃতীয় স্ত্রীর সন্তান |
পুলিশ জানিয়েছে, তিন বোনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসাবেই ধরা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বাবার ঋণ, পারিবারিক জটিলতা ও কোরীয় গেমের আসক্তির প্রভাব সহ সব দিক খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের আত্মহত্যার ঘটনায় কুমারের সম্ভাব্য প্রভাবও যাচাই করা হচ্ছে।
গাজিয়াবাদে এই ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন গেমের প্রভাব এবং পারিবারিক চাপ—সবকিছুই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঘটনা ভারতীয় সমাজে অনলাইন গেম ও পরিবারের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।