খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু, বহু মানুষের আহত হওয়া এবং সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার এক বিবৃতিতে আসক বলেছে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষা করা। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি পুরো সমাজকেই বহন করতে হয়। তাই অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আসক আরও জানিয়েছে, সহিংসতায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ হয়ে থাকলে তারও দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংস্থাটির মতে, পার্বত্য এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে জানমাল ও জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অতীতের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া এবং পেছনের অন্তর্নিহিত কারণগুলো চিহ্নিত না করার ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জাতীয় ঐক্য ও দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সহিংসতা, ভীতি ও উসকানি কখনোই সমাধান নয়; বরং এগুলো পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমান—কারও প্রতি অবিচার, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতা মানে গোটা রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
খবরওয়ালা/এন