খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কিনতে মানুষের হুড়োহুড়ি দেখা গেছে। অনেক স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও তেল সংগ্রহকে ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে ধারণা করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে হঠাৎ করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন। কোথাও কোথাও পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কোনো সরকারি ঘোষণা নেই। মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে অতিরঞ্জিত খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, পাম্পগুলোতে নির্ধারিত মূল্যে স্বাভাবিকভাবেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে এবং সরবরাহেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি বিক্রির সময় ক্রয় রশিদ প্রদান, আগের রশিদ যাচাই করে পরবর্তীবার জ্বালানি সরবরাহ, এবং বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ না করা। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত মজুত ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানি নির্ভর হলেও স্বল্পমেয়াদে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতিতে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, যার বড় অংশই ব্যবহৃত হয় পরিবহন ও কৃষি খাতে।
| খাত | মোট ব্যবহারের আনুমানিক হার |
|---|---|
| পরিবহন | ৬৩.৪১% |
| কৃষি | ১৫.৪১% |
| বিদ্যুৎ | ১১.৬৭% |
| শিল্প | ৫.৯৬% |
| গৃহস্থালি ও অন্যান্য | অবশিষ্ট অংশ |
বিশ্লেষকদের মতে, গুজব ও আতঙ্কের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।