খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে সন্ত্রাস দমন আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে নাম উল্লেখসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন বলে জানান থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান, সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ রাকিব হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলী লেকু, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক আলিমুজ্জামান (বিটু), যুগ্ম সম্পাদক আলী নাঈম খান জিমি, যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম মাসুদ রানা এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নীতীশ রায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই এনসিপির গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে আয়োজিত সভায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। হামলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলায় সহিংসতায় মোট ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সদর, কাশিয়ানী, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া থানায় মামলা করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাত ১৪ হাজার ৪৫০ জনকেও আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আগের মামলাগুলোর তথ্য
গত ২৬ জুলাই নিহত রমজান মুন্সীর ভাই জামাল মুন্সি অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে ১৯ জুলাই রাতে চার যুবক নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় চারটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যাতে অজ্ঞাত ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
এছাড়া সদর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দুটি, জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় একটি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে কাশিয়ানীতে দুটি, কোটালীপাড়ায় একটি ও টুঙ্গিপাড়ায় আরেকটি মামলা হয়।
১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন—দীপ্ত সাহা (৩০), রমজান কাজী (১৭), সোহেল রানা (৩৫) এবং ইমন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রমজান মুন্সী।
ঘটনার পর গোপালগঞ্জে ১১৪ ধারা এবং কারফিউ জারি করা হয়, যা ২০ জুলাই তুলে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল।
খবরওয়ালা/টিএসএন