খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে দিনভর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ শিশুসহ ২৭৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার তানিয়া জামান।
তানিয়া জামান বলেন, শনিবার ১১০ জন ও শুক্রবার ১৬৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে শুক্রবার কারাগারে আসা ৫০ জনকে পিরোজপুর ও ৫০ জনকে মাদারীপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবারের বন্দিদের মধ্যে ৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে, যাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত সূত্র জানায়, শনিবার আদালতে হাজির করা আসামিদের মধ্যে অন্তত ৫ জন শিশু ছিল।
গত শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শামীম আল মামুন বাদী হয়ে সদর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০-৩৫০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলাটি করেন। এ নিয়ে চারটি মামলা হলো। এগুলোয় প্রায় ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১০ জনকে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার রাতেই মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
চার মামলায় আসামি ৩০০৮
গোপালগঞ্জ সদর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪০৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ওই সংগঠনের ৫৭৫ নেতাকর্মীকে আসামি করে একই আইনে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আরেকটি মামলা করা হয়।
কোটালীপাড়া থানায় বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এক হাজার ৬৫৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ ছাড়া কাশিয়ানী থানায় বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৭৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ বাদী হয়েছে। এদিকে চার মামলায় জেলার পাঁচ থানা পুলিশ ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা করেছে।
গোপালগঞ্জ সিজেএম আদালতের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, দুই দিনে পাঁচ থানা থেকে গ্রেপ্তার ২৭৭ জনকে আদালতে আনা হয়। পরে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জেলা কারাগারে পাঠান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি জানান, গোপালগঞ্জে রবিববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪৪ ধারার কার্যক্রম শুরু হবে। চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এর আগে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকলেও শহরের মানুষের চলাচল ছিল কম। গত বুধবার গোপালগঞ্জে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। ওই সময় শেষে কারফিউ পুরোপুরি না তুলে সময় ধরে শিথিল করা হয়।
খবরওয়ালা/এমইউ