খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের অন্যতম প্রধান ভরসা এবং মাঠের ভেতরে লিওনেল মেসির ‘বডিগার্ড’ হিসেবে পরিচিত রদ্রিগো ডি পল এবার ফুটবলীয় দক্ষতার বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে খবরের শিরোনামে এসেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক জরিপের ফলাফলে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘সুদর্শন’ চেহারার ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের চেহারার নিখুঁত জ্যামিতিক অনুপাত বিশ্লেষণ করে ‘ড্রিমজিএফ’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ তালিকাটি তৈরি করেছে।
গবেষণাটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানা গেছে, অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুগলে (Google) খোঁজা হওয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৫০ জন ফুটবলারের ছবি সংগ্রহ করে এই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণটি চালানো হয়। তালিকাটি চূড়ান্ত করতে বিজ্ঞানের প্রাচীন গাণিতিক সূত্র ‘গোল্ডেন রেশিও’ (Golden Ratio) ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষের চেহারার গঠন, ভারসাম্য, প্রতিসাম্য ও সুষমা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করার জন্য বিশ্বজুড়ে এই গাণিতিক পদ্ধতিটি স্বীকৃত। এই এআই-ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ৭৪.১৮% নম্বর পেয়ে তালিকার শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন রদ্রিগো ডি পল। তবে অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে তার ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জার্মানির ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ, যার প্রাপ্ত নম্বর ৭৪.১০%। অন্যদিকে, ৭৩.২৯% নম্বর পেয়ে এই গাণিতিক তালিকার তৃতীয় স্থানটি অর্জন করেছেন ইংলিশ উইঙ্গার ননি মাদুয়েকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত জ্যামিতিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ সুদর্শন ফুটবলার এবং তাদের প্রাপ্ত নম্বরের পরিসংখ্যান নিচের তালিকায় উপস্থাপন করা হলো:
| অবস্থানের ক্রম | ফুটবলারের নাম | জাতীয় দল / দেশ | মাঠের পজিশন | গোল্ডেন রেশিও স্কোর (%) |
| ১ম | রদ্রিগো ডি পল | আর্জেন্টিনা | মিডফিল্ডার | ৭৪.১৮% |
| ২য় | কাই হাভার্টজ | জার্মানি | ফরোয়ার্ড | ৭৪.১০% |
| ৩য় | ননি মাদুয়েকে | ইংল্যান্ড | উইঙ্গার | ৭৩.২৯% |
| ৪র্থ | মোহাম্মদ সালাহ | মিসর | ফরোয়ার্ড | ۷৩.২৭% |
| ৫ম | এনড্রিক | ব্রাজিল | ফরোয়ার্ড | ৭৩.২৫% |
গাণিতিক এই তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতেও বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য দেখা গেছে। জরিপে ৭৩.২৭% নম্বর পেয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। আর ব্রাজিলের তরুণ ফুটবল সেনসেশন এনড্রিক ৭৩.২৫% নম্বর নিয়ে পঞ্চম স্থানটি দখল করেছেন। অন্যদিকে, মাত্র ০.০১% নম্বরের ন্যূনতম ব্যবধানে সেরা পাঁচের তালিকা থেকে ছিটকে গেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের অধিনায়ক সন হিউং-মিন; গাণিতিক পরিমাপে তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৩.২৪%।
এই বৈজ্ঞানিক জরিপের প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে ড্রিমএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গেওর্গি দিমিত্রভ তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই তালিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো ফুটবলারের মাঠের পারফরম্যান্স, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা কিংবা ব্যক্তিগত ফ্যানবেজের (ভক্তকূল) ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি। আর এই কারণেই ফুটবল বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত ও বড় বড় তারকা এই তালিকায় বেশ পিছিয়ে পড়েছেন, এবং সবাইকে সম্পূর্ণ চমকে দিয়ে জ্যামিতিক সুষমায় শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন রদ্রিগো ডি পল।’
গবেষক দল স্পষ্ট করেছে যে, এই গবেষণায় ফুটবলারদের ব্যক্তিগত ফ্যাশন স্টাইল, চুলের ছাঁট (হেয়ারস্টাইল) কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয়তার মতো বাহ্যিক বা আবেগীয় কোনো বিষয়কে বিবেচনার মধ্যে নেওয়া হয়নি। কেবল মানুষের মুখের নিখুঁত গাণিতিক ও জ্যামিতিক অনুপাতই ছিল এই মূল্যায়নের একমাত্র ভিত্তি। এই কঠোর গাণিতিক নিয়মের কারণে ফুটবল বিশ্বের অনেক পরিচিত ফ্যাশন আইকন ফুটবলার তালিকায় বেশ পেছনের সারিতে চলে গেছেন। যেমন, ফরাসি ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে ২২ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন রায়ান চেরকি। তাঁর ঠিক পেছনেই যথাক্রমে ২৩ ও ২৪তম অবস্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র এবং ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম।
তবে এই বৈজ্ঞানিক তালিকার সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ ও অপ্রত্যাশিত ধাক্কাটি এসেছে পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থকদের জন্য। নিজের শারীরিক ফিটনেস, ডায়েট এবং বাহ্যিক অবয়ব বা লুক নিয়ে সর্বদা অসম্ভব সচেতন ও যত্নশীল থাকা সত্ত্বেও, গোল্ডেন রেশিওর এই গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমাপ তালিকায় সিআরসেভেন (CR7) শীর্ষস্থানগুলো থেকে অনেক দূরে ছিটকে গিয়ে ৪৫তম অবস্থানে জায়গা পেয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এআই চালিত এই ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনভাবে কেবল গাণিতিক সূত্র অনুসরণ করে ফলাফল নির্ধারণ করেছে।