খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুর জেলা ও মহানগরী এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পোশাকশিল্পসংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাদমা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখন নানামুখী সংকট মোকাবিলা করছি। রপ্তানির ক্ষেত্রে আমেরিকা যখন পাল্টা শুল্ক আরোপ করল, ঠিক তখনই সরকার দেশের জ্বালানিনীতি পরিবর্তন করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করল। অন্যদিকে দাম বাড়ালেও গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘রাত ৮-৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনোরকমে কারখানা চালু রাখা হলেও সকাল ৬টার পর গ্যাসের চাপ এবং সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। আমার উৎপাদন দৈনিক ৬০ টন থেকে কমে ১০ টনে নেমে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচ কোনোভাবেই থেমে থাকবে না। ফলে আগামী দিনগুলোয় এ অবস্থা চলতে থাকলে কীভাবে এসব পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’ বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেও সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
গাজীপুরের প্যাসিফিক ফাইবার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রায়হান বলেন, গ্যাসসংকট, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী প্রতিকূলতার কারণে জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। গ্যাসসংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। অনেকে বিকল্প উপায়ে বেশি খরচ করে উৎপাদন চালু রাখলেও রপ্তানিতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরে বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২ হাজার ১৭৬টি। এসবের মধ্যে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত মোট কারখানা আছে ৭৪৩টি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১২৪টি। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১২৮টি।
তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক পরিচালন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফারুক জানান, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৬০০-৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে।
গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন গাজীপুরের তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক সুরুজ আলম। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অনেক কম। সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের চাপও কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি, জাতীয়ভাবে সমন্বয় করে কীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করা যায়।’
খবরওয়ালা/এমএজেড