খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যদি কোনো বিকল্প নির্বাচন করতে হয়, তবে গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই ডেনমার্ককেই বেছে নেবে। তিনি এ মন্তব্য করেন কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে।
এই ঘোষণাকে অনেকেই ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখছেন। কারণ, এর আগের কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা পুনরায় সামনে এনেছিলেন। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ প্রয়োজন। যদিও হোয়াইট হাউস প্রস্তাব দিয়েছিল দ্বীপটি কেনার বিষয়ে, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প নিলসেনের মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এটা তাদের সমস্যা। আমি একমত নই। এটি তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”
গ্রিনল্যান্ড, বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার অঞ্চলগুলোর একটি হলেও, উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে দ্বীপটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুধু লিজ যথেষ্ট নয়—যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে হবে এবং ন্যাটোকেও এটা মেনে নিতে হবে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য চাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও কঠিন হতে পারে।”
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট এবং ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তারা ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইউরোপের প্রধান দেশ ও কানাডা ডেনমার্কের সমর্থন জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার শুধু এই দুই পক্ষের। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে থাকায় গ্রিনল্যান্ডে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম, লোহা এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস মজুদ রয়েছে। এই কারণে দ্বীপটি নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দ্বীপের নাম | গ্রিনল্যান্ড |
| প্রধানমন্ত্রী | জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন |
| সহযোগী দেশ | ডেনমার্ক |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব | দ্বীপ কেনার বা মালিকানা নেয়ার পরিকল্পনা |
| কৌশলগত গুরুত্ব | আর্কটিক পর্যবেক্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ |
| পিটুফিক ঘাঁটি | যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, শতাধিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান |
| সামরিক চুক্তি | ডেনমার্কের সঙ্গে লিজ চুক্তি |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | ন্যাটো, ইউরোপের প্রধান দেশ, কানাডা ডেনমার্কের সমর্থন |
| প্রাকৃতিক সম্পদ | বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম, লোহা, সম্ভাব্য তেল-গ্যাস |