খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সাতকানিয়ায় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার হিংগুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ আজমনগরে দুই বাড়ি এবং সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের আঁধারমানিক দরগাহ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি আবদুল হালিম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আজমনগর ফেনী নদী-সংলগ্ন গ্রাম হওয়ায় ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যেতে পেরেছে। শনাক্ত করে তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে কুয়েতপ্রবাসী মান্নান মিয়ার বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। এ সময় মান্নান মিয়ার স্কুলপড়ুয়া ছেলে সাফায়াত হোসেনসহ স্ত্রী রাশেদা আক্তারকে বেঁধে রেখে ৫০ হাজার টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন নেয় তারা। আরও টাকা ও স্বর্ণের জন্য ডাকাতরা ছেলের গলায় ছুরি এবং রাশেদাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়।
এর পর ডাকাতরা একই ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া আসমা খাতুন ও রাজিয়া সুলতানার ফ্ল্যাটে ঢুকে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া ভোর ৪টার দিকে ডাকাতরা একই গ্রামের প্রবাসী মানিক মিয়ার বাড়ির দরজা ভেঙে তাঁর স্ত্রী খালেদা আক্তার, দুই শিশুসন্তান এবং শ্বশুর মনির আহমদকে বেঁধে ফেলে। তারা দুই ছেলেকে হত্যা ও খালেদাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা, সাতটি বিদেশি কম্বল এবং মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
মনির আহমদ জানান, দেশীয় অস্ত্র হাতে সাত-আটজন মুখোশ পরে এসেছিল। পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করে হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে সবকিছু নিয়ে গেছে।
এদিকে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেঁওচিয়া আঁধারমানিক দরগাহ এলাকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও পরিবেশকর্মী হোছাইন মোহাম্মদ এহসান জানান, বুধবার রাত ৩টার দিকে সাত-আটজন মুখোশ পরে জানালার গ্রিল কেটে তাঁর ঘরে ঢোকে। মা, বোন, ভাগনে-ভাগনিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আট ভরি স্বর্ণালংকার, এক লাখ ১৫ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন, কয়েকটি চেক বই ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায় তারা। বাধা দিলে ভাগনে এমরান বিন মুসাকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, বাড়ির কাছে ইছাপুকুর মসজিদের সামনে ডাকাতদের একটি মাইক্রোবাস ছিল। খবর পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ওই মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ডাকাত দলের সদস্যদের পরনে ছিল হাফ জিন্স প্যান্ট, মুখোশ ও টি-শার্ট। তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
খবরওয়ালা/এসআর