খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত মার্চ মাসে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার মূল অভিযুক্ত মো. ফয়সালকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গতকাল বুধবার রাতে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি তদন্ত এবং আসামির স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার একটি কলোনি থেকে ১১ বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু হঠাৎ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর, ২৬ মার্চ ওই শিশুর বসতবাড়ির পাশে অবস্থিত একটি তুলার গুদাম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গুদামের ভেতর শিশুটির ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে প্রথমে পাশবিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি তুলার গুদামে ফেলে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে, অভিযুক্ত যুবক ফয়সাল ওই শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বা জোরপূর্বক তুলার গুদামের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পর ফয়সালকে একা গুদাম থেকে বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়, কিন্তু শিশুটি আর বের হয়নি।
এই অকাট্য ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৬ মার্চেই নিহতের মা বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় ফয়সালকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি ফয়সাল পলাতক ছিলেন।
নিচে মামলার প্রধান প্রধান তথ্যসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | বিবরণের বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| ১ | ভিকটিমের বয়স ও পরিচয় | ১১ বছর বয়সী কন্যাশিশু (পিতা প্রতিবন্ধী, মাতা পোশাক শ্রমিক) |
| ২ | প্রধান অভিযুক্তের নাম ও বয়স | মো. ফয়সাল (১৯ বছর) |
| ৩ | অভিযুক্তের স্থায়ী ঠিকানা ও পেশা | বরিশাল জেলা; পেশায় দিনমজুর |
| ৪ | ঘটনার স্থান ও তারিখ | হাটহাজারী, চট্টগ্রাম; ২৪ মার্চ (নিখোঁজ) ও ২৬ মার্চ (লাশ উদ্ধার) |
| ৫ | মামলা দায়েরের তারিখ ও স্থান | ২৬ মার্চ; হাটহাজারী থানা, চট্টগ্রাম |
| ৬ | গ্রেপ্তারের স্থান ও তারিখ | টংকপাড়া, নিলক্ষী ইউনিয়ন, রায়পুরা, নরসিংদী; বুধবার রাত |
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর থেকে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার রাতে নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ আদালতে আসামি মো. ফয়সাল ভিকটিমকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত শিশুটির পরিবার অত্যন্ত অসচ্ছল। তার বাবা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং মা জীবিকার তাগিদে স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তারা যে কলোনিতে বসবাস করতেন, অভিযুক্ত ফয়সালও একই কলোনিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। ফয়সালের মূল বাড়ি বরিশাল জেলায় এবং তিনি এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন। একই কলোনিতে থাকার সুবাদে তিনি শিশুটিকে চিনতেন এবং সেই সুযোগেই এই অপরাধ সংঘটিত করেন। বর্তমানে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।