খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার খবরকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মহানগরীর কোথাও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি; বরং মাত্র পাঁচটি স্থানে সাময়িকভাবে ‘জলজট’ দেখা দিয়েছিল যা দ্রুততম সময়ে নিরসন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এলাকাটি পরিদর্শনে যান। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। মীর শাহে আলম সংসদে বলেন:
“চট্টগ্রাম মহানগর পানির ওপর ভাসছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এমন তথ্যগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক। মূলত ২০২৪ সালের পুরনো ছবি ব্যবহার করে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি অশুভ চক্র অপপ্রচার চালিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পরিদর্শনের সময় তিনি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছেন। নগরবাসী তাকে জানিয়েছেন যে, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি অনেকাংশে উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনৈক সংসদ সদস্যের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরবাসীর কাছে যে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, সেটিকে নগরবাসী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর উদারতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ এপ্রিল, যখন প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ বিষয়টি উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি দাবি করেন যে, নগরবাসী জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (যিনি বর্তমানে দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন) তৎক্ষণাৎ দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রীর বর্তমান বিবৃতিটি মূলত সেই অভিযোগের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ফ্যাক্ট-চেক বা তথ্যের স্পষ্টীকরণ।
চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তার একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র প্রতিমন্ত্রী সংসদে তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যমতে:
খালের সংখ্যা: চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৫৭টি খাল প্রবাহিত।
চলমান উন্নয়ন কাজ: এর মধ্যে ৩৬টি খালের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে।
কাজের অগ্রগতি: ৩৬টি খালের মধ্যে ইতিমধেই ৩০টি খালের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬টি খালের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় কিছু খালে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হয়েছিল। গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে হঠাৎ ২২০ মিলিমিটার অতিবৃষ্টি হওয়ায় ওই বাঁধগুলোর কারণে পানিপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে প্রবর্তক মোড়সহ মোট পাঁচটি স্থানে জলজট তৈরি হয়েছিল। তবে যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই সেই পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তার বিবৃতিতে ‘জলাবদ্ধতা’ এবং ‘জলজট’—এই দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নগরীর একটি বিশাল অংশ দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকাকে জলাবদ্ধতা বলা হয়, যা এখন চট্টগ্রামে নেই। অতিবৃষ্টির কারণে পানি নামতে কিছুটা বিলম্ব হওয়াকে তিনি ‘জলজট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে চট্টগ্রামের কোথাও কোনো পানি জমে নেই এবং জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।