খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড, যা একটি নৌ-বাহিনী পরিচালিত সামরিক জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান।
রবিবার (৬ জুলাই) মধ্যরাত থেকে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল পরিচালনার কাজ শুরু করেছে। ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে ছয় মাসের কার্যাদেশ পেয়েছে ড্রাইডক লিমিটেড।
আগের চুক্তি অনুযায়ী, সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে বন্দরের চুক্তির মেয়াদ ৬ জুলাই দিবাগত রাত ১২টায় শেষ হয়ে যায়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি, ফলে তারা চলে যায় এবং দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চালিত থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের বিদায়ঘণ্টা বেজে যায়।
এনসিটি থেকে সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিল। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা ছিল যে, বন্দরের কর্তৃপক্ষ নিজেই টার্মিনাল পরিচালনা করবে, তবে পরে সরকারের পক্ষ থেকে নৌ-বাহিনীকে এর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আসে। যদিও আইনি কিছু জটিলতা থাকায় সরাসরি নৌ-বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, ড্রাইডক তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগের অপারেটরের সঙ্গে কর্মরত শ্রমিকরা এখনো একইভাবে এনসিটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কেবল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল হচ্ছে এনসিটি। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালে একসঙ্গে ছোট-বড় পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব। এখানে মোট চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের প্রায় অর্ধেক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় এই টার্মিনালের মাধ্যমে। টার্মিনালে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ এবং কনটেইনার ওঠা-নামার জন্য ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন।
এ ছাড়া, টার্মিনালটি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত, যার মাধ্যমে কনটেইনার স্থানান্তরের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এনসিটির উন্নয়নে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুরো বিনিয়োগ থাকলেও সাইফ পাওয়ারটেক দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবহার করে বিনিয়োগ ছাড়া হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। অন্য কোনো দেশি কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এখানে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনসিটি থেকে সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে সাইফ পাওয়ারটেককে রক্ষা করতে বিভিন্ন পক্ষ আন্দোলন চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই আন্দোলনের মধ্যে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস করেন, যেখানে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বন্দর অচল করার জন্য টাকা ঢালার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনায় নতুন নেতৃত্বের শুরু, যেখানে পুরোনো বিতর্কগুলোর সমাপ্তি ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
খবরওয়ালা/আরডি