খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 26শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে হুমায়ুন কবির নামের বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে রায়পুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ই আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হুমায়ুন কবিরকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবির রায়পুর পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে, সোমবার বিকেলে রায়পুরের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে হুমায়ুন কবিরকে মারধর করেন চালক ও শ্রমিকরা। ঘটনার সময় তিনি পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দলের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এ কারণে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাকে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে হুমায়ুন কবির স্থানীয় স্ট্যান্ডে টোল আদায়কারীর কাছে চাঁদা চাইতে গেলে কয়েকজন চালক ও শ্রমিকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও ধাওয়া করা হয়। চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হুমায়ুন কবির ও বিএনপির আরও এক নেতা চালক ও মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে বসা অবস্থায় হুমায়ুন কবির নিজেকে সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি পরিচয় দিয়ে পৌরসভার টোল আদায়কারী শাকিলের কাছে টাকা দাবি করছেন। শাকিল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আগেই বিএনপির আরেক নেতা টাকা নিয়েছেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে চালকরা হুমায়ুনকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে চালক ও শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে রায়পুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে হুমায়ুন কবিরকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তার মুঠোফোনে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি। চালকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।’
জানতে চাইলে রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ বি এম জিলানী বলেন, চাঁদাবাজির মতো অন্যায় কর্মকাণ্ড বিএনপির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেউ যদি এমন কাজে জড়ায়, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত দায়। দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। স্ট্যান্ডে যারা অবৈধভাবে টাকা তুলছেন বা তুলতে চাইছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য হবে না। অপরাধী যে–ই হোক, প্রমাণ মিললেই গ্রেপ্তার ও আইনের মুখোমুখি করা হবে।’
খবরওয়ালা/এমইউ