কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় সিনথিয়া উদ্দিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে পৌরভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভবনের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত সিনথিয়া উদ্দিন লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে লালমাই উপজেলার সিংহরিয়া গ্রামের প্রবাসী সাহাব উদ্দিন ও কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খালেদা আক্তারের সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার মা দুই সন্তানকে নিয়ে লাকসাম পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় সিনথিয়ার মা তাকে বান্ধবীদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানো নিয়ে বকা দেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলেন। এ ঘটনায় অভিমান করে সে নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাত গভীর হওয়ায় বিষয়টি প্রথমে ততটা গুরুত্ব না পেলেও পরদিন সকালে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিনথিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার হাতে ধারালো বস্তু দিয়ে কাটার একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানান, সিনথিয়া ছিল শান্ত স্বভাবের ও পড়াশোনায় মনোযোগী একজন শিক্ষার্থী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
বিবরণ |
| নিহতের নাম |
সিনথিয়া উদ্দিন |
| বয়স |
১৫ বছর |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান |
লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় |
| শ্রেণি |
নবম শ্রেণি |
| ঘটনা |
ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার |
| স্থান |
লাকসাম পৌর এলাকা |
| সময় |
মঙ্গলবার সকাল |
| আইনগত ব্যবস্থা |
অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন |
লাকসাম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবার, প্রতিবেশী ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনা এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিশোর বয়সে আবেগ নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সহনশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।