খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি নয়, একটি দোকানে কারা ব্যবসা করবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এবং যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের একসঙ্গে ব্যবসা ছিল।
শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানায়, ভাঙারি ব্যবসা ও দোকান চালানোর বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। সোহাগ এবং হত্যাকারীরা একসঙ্গে কিছুদিন ব্যবসা করেছিল। কিন্তু ব্যবসার লেনদেনের বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে। এই দ্বন্দ্বের কারণে খুনের ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বুধবার (১০ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে সোহাগকে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানায় নিহতের বড় বোনের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।’
পুলিশের অভিযানে শুক্রবার (১১ জুলাই), সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর এজাহারভুক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) এবং তারেক রহমান রবিন (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এরপর র্যাব কর্তৃক আলমগীর (২৮) ও মনির (২৫) নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ মো. টিটন গাজী (৩২) নামের আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
লালবাগ বিভাগের ডিসি বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়েছে, যা মূল রহস্য উদঘাটন এবং সোহাগ কেন এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তা জানতে কাজ করছে।’
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তারা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অব্যাহত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
খবরওয়ালা/আরডি