পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদলের এক স্থানীয় নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদীর গোকুলনগর এলাকার এক ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুজ্জামান গত ১৭ মাসে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মোট এক কোটি সত্তর লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময় সংগঠিতভাবে চাপ সৃষ্টি করে ওই টাকা আদায় করা হয় এবং নতুন করে আরও অর্থ দাবি অব্যাহত রাখা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত পনেরো মে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাশের লালপুর উপজেলার পালিদহ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাহমুদ হাসান সোনামনি নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে আরও তিন সহযোগীকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিল।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও একইভাবে চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ধারাবাহিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হন।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে এলাকায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
বিষয়
বিবরণ
অভিযোগ
ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়
মোট আদায় অর্থ
এক কোটি সত্তর লাখ টাকা
সময়কাল
প্রায় সতেরো মাস
গ্রেফতার
চারজন
প্রধান অভিযুক্ত
স্থানীয় যুবদল নেতা
উদ্ধার
একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, দশ রাউন্ড গুলি
এলাকা
ঈশ্বরদী ও লালপুর
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।