রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিস্তারিত ও পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই সোহেল রানা আত্মগোপনে চলে যান। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং একাধিক সূত্রের সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি আবাসিক ভবনে। নিহত শিশু রামিসা ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মোল্লার মেয়ে। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা পাশের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তবে কী কারণে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও বিশেষ শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন। এসব আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সময়রেখা
সময়/পর্যায়
ঘটনা
সকাল আনুমানিক ৯টা
পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বাসায় হত্যাকাণ্ড ঘটে
ঘটনার পরপর
স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয় এবং এলাকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে
ঘটনার দিন
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে
পরদিন
সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু
মঙ্গলবার রাত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানা গ্রেফতার
বুধবার
আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার আগে ওই এলাকায় সোহেল রানা ও তার পরিবারের চলাফেরা স্বাভাবিক ছিল। তবে হঠাৎ এমন একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সোহেল রানাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এতে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি একটি স্পর্শকাতর ও জটিল মামলা, যার প্রতিটি দিক গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।