খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
গাজীপুরের টঙ্গীতে জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে নাম রয়েছে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের।
ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার জানান, পিতার মৃত্যুর পর তিনি সাড়ে চৌদ্দ কাঠা জমির মালিক হন। চার মাস আগে তিনি পাঁচ কাঠা জমি বিক্রি করতে গেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জন বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে তিনি এক লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি বিক্রি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আরও চাঁদা দাবি করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) জুমার নামাজের পর বিক্রিত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
শিরিনের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ একদল ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্বামী আব্দুল কাদেরকে মারধর করে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওইদিনই টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিরিন ও তাঁর স্বামী। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এখন বিক্রিত জমিতে জোরপূর্বক বাউন্ডারির কাজ চালাচ্ছেন এবং শিরিনকে তাঁর নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
শিরিন বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। তবুও আমাদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অমানবিক। আমি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘শিরিন ও তাঁর ভাইবোনদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার নামাজের আগে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়। আমি তখন পরিস্থিতি শান্ত করে মসজিদে যাই। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখি তারা আবার ঝগড়া করছে। তখন স্থানীয় নেতা ইব্রাহীমকে নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসকান্দর হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/আশ