খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজধানীর মতিঝিলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার সকাল ৯টা থেকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এভাবে প্রায় দশ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা। কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনেকেই আগের দিন রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন।
এই মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা চাকরি পুনর্বহালের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, হঠাৎ চাকরি হারানোর ফলে হাজারো পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা চাকরি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পূর্বের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিচার দাবি করেন এবং ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণের কথাও উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের জীবিকা নির্বাহের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়: অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মীকে স্বপদে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আইনি নিশ্চয়তা প্রদান।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব কর্মীর শিক্ষাগত সনদে জালিয়াতি পাওয়া গেছে এবং যারা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে তারা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আলোচিত ছয়টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পূর্বে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের হাতে ছিল। পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তনের পর ওই গ্রুপ ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কর্মসূচির স্থান | মতিঝিল, দিলকুশা |
| সময় | সকাল ৯টা |
| অংশগ্রহণকারী | প্রায় ১০,০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী |
| সংশ্লিষ্ট ব্যাংক | ৬টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক |
| প্রধান দাবি | চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া পরিশোধ, আইনি নিশ্চয়তা |
| বর্তমান অবস্থা | ৪টি ব্যাংক একীভূত প্রক্রিয়ায়, ২টি স্বতন্ত্র পরিচালনায় |