অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল গালর্স কলেজ দেখতেও চমৎকার চারতলা ভবন। তবে কলেজের ভেতর এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক নেই। মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। কলেজটিতে একজন স্থায়ী শিক্ষক, চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং একজন আয়া রয়েছেন। বিনা বেতনে পড়ানো হলেও শিক্ষার্থী মিলছে না। তবে প্রতি বছর কলেজের ১১টি পাঠ্যবিষয়ে স্বীকৃতি সনদ নবায়ন করা হচ্ছে নির্ধারিত ফি দিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ৩২ বছর ধরে কলেজটি এ হালেই চলছে। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এ দৈন্যদশা। কলেজটিতে শুধু মানবিক শাখা রয়েছে। গতবছর চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলে মাত্র একজন এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লৌহজংয়ে ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতি বছর এসব বিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ৫০০-৬০০ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। এরপর তারা উপজেলা সরকারি লৌহজং কলেজ, ইউনুস খান মেমোরিয়াল কলেজ, পার্শ্ববর্তী শ্রীনগর উপজেলার সরকারি শ্রীনগর কলেজ অথবা ঢাকার কলেজগুলোতে ভর্তি হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডল গ্রামের জলিল হাওলাদার নামের একজন শিক্ষানুরাগী নারীদের শিক্ষা বিস্তারে এক একর জমি দান করেন। পরে ১৯৯৪ সালের ২১ নভেম্বর স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ইউং কমান্ডার (অব.) এম হামিদুল্লাহ খাঁন বীরপ্রতীককে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি করে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়।
মেদিনীমণ্ডল গালর্স কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কলেজটির বহুদিন ধরে দুরবস্থা। শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীও নেই। কলেজের ফান্ডিংয়ের একটি বিষয় থাকে, সেটাও নেই। এজন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।”
কলেজের অধ্যক্ষ রোজিনা আক্তার বলেন, “বর্তমানে আমার কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন প্রভাষক আছেন। তাও নিয়মিত না। মাঝে মধ্যে আসেন। তারা অন্যত্র কিছু করে সংসার চালাচ্ছেন। বেতন-ভাতা দিতে পারছি না। তারা কী করে সংসার চালাবেন?”
তিনি আরও বলেন, “এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ভালো কোনো শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছে না। সরকার যদি এমপিওভুক্ত করে দেয়, তাহলে সব সমাধান হবে।”