খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের চা শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের মূল মজুরি প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়াতে সম্মত হয়েছেন চা-বাগানের মালিকরা। একই সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চা-বাগান মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদ (বিসিএস), বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং চা শিল্পে কর্মরত কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
চুক্তির আওতায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে শ্রমিক ও কর্মচারীদের মূল বেতন প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য আর্থিক সুবিধা, যেমন বিভিন্ন ভাতা ও ভেজাল সহায়তাও সংশোধন ও সমন্বয় করা হবে।
স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের জন্যও মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ানো হবে অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিটিএ চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সালেক আহমেদ আবুল মাশরুর, লেবার সাবকমিটির কনভেনার তাহসিন আহমেদ চৌধুরী, কমিটি মেম্বার এম ওয়াহিদুল হক, চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মল্লিক টি রহমান, মহাসচিব কাজী মোজাম্মেল হক, বিভিন্ন বাগানের প্রতিনিধিসহ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিটিএ চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সব শ্রমিক ও কর্মচারীকে চা শিল্পের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, ‘চা-বাগানের উৎপাদনশীলতা ও শ্রমিকদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্ধিত মজুরি চা-শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা বাড়ানো ও চা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তি চা শিল্পে স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
এই চুক্তিকে দেশের চা শিল্পে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও শিল্পের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এসআই