খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
বিয়ের আসরে প্রথাগত গানবাজনা, নাচ-গান কিংবা বর-কনের আংটি বদলের ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য তো প্রায় নিয়মিতই দেখা যায়। কিন্তু একটি জমকালো বিয়ের সুসজ্জিত মঞ্চকে যদি আচমকা কুস্তির ময়দানে রূপান্তর করে ফেলা হয় এবং সেখানে যদি সংসারের প্রতিদিনের খাটুনি ও ঘরকন্নার কাজ থেকে রেহাই পাওয়ার শর্তে খোদ বর ও কনে কুস্তি লড়াইয়ে মেতে ওঠেন, তবে তা অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। ঠিক এমন এক ব্যতিক্রমী, চিত্তাকর্ষক এবং অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে চিনে। বিয়ের মতো একটি প্রথাগত সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন অভিনব বিনোদনের আয়োজন আমন্ত্রিত অতিথিদের চমকে দিয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের গুইঝৌ প্রদেশের জুনি শহরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পেশাদার কুস্তিগির হে ইনশেং এবং তাঁর নববিবাহিত কনে নিজেদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। বিয়ের মঞ্চে প্রথাগত কোনো পরিবেশনা বা সাধারণ খেলার পরিবর্তে অতিথিদের তাক লাগিয়ে দিয়ে মঞ্চের মাঝখানে তৈরি করা হয় আস্ত একটি পেশাদার কুস্তির রিং। এই বিশেষ লড়াইয়ের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট এবং মজার শর্ত কাজ করছিল। শর্তটি ছিল—যিনি এই কুস্তি প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করবেন, বিয়ের পর তাঁকে আর ঘরের কোনো দৈনন্দিন কাজ বা রান্নাবান্নার খাটুনি করতে হবে না।
বিয়ের এই অভিনব কুস্তি প্রতিযোগিতা, শর্তাবলী এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিয়ের অভিনব আয়োজনের মূল সূচকসমূহ | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং বিবরণী |
| ঘটনাটি যে দেশে ঘটেছে | চিন |
| নির্দিষ্ট প্রদেশ ও শহরের নাম | গুইঝৌ প্রদেশ, জুনি শহর |
| বরের নাম ও পেশাগত পরিচয় | হে ইনশেং (পেশাদার কুস্তিগির) |
| প্রতিযোগিতার মূল স্থান | বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চের রিং |
| লড়াইয়ের মূল শর্ত ও পুরস্কার | বিজয়ী ব্যক্তিকে বিয়ের পর ঘরকন্নার কাজ করতে হবে না |
| প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল | বরকে পরাজিত করে কনে জয়লাভ করেন |
| নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ ব্যবস্থা | কেবল প্রশিক্ষিত কুস্তিগিরদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ |
| আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য | স্মৃতি স্মরণীয় করা এবং অতিরিক্ত বিনোদন খরচ বাঁচানো |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, বর ও কনে অত্যন্ত নাটকীয় এবং পেশাদার ভঙ্গিতে কুস্তির রিংয়ে প্রবেশ করছেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমন্ত্রিত অতিথিরা গভীর উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং নিজেদের মুঠোফোনে এই দৃশ্য ধারণ করতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানটিকে আরও চিত্তাকর্ষক করতে কেবল বর-কনেই নন, তাঁদের আমন্ত্রিত কুস্তিগির বন্ধুরা ও সহকর্মীরাও এই রোমাঞ্চকর আয়োজনে সরাসরি যোগ দেন। তাঁরা রিংয়ের ভেতর নানা ধরনের চমৎকার ও জটিল কুস্তির কৌশল প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শকদের বিনোদন প্রদান করেন।
বেশ কয়েক রাউন্ডের হাড্ডাহাড্ডি ও তীব্র লড়াইয়ের পর চূড়ান্ত রাউন্ডে বরকে সম্পূর্ণ কুপোকাত করে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে নেন কনে। খেলার নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত রেফারি যখন কনেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং পরাজিত বরকে ঘরের যাবতীয় কাজ ও ঘরকন্নার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন পুরো অনুষ্ঠানস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়। আমন্ত্রিত অতিথিরা বরের এই পরাজয় এবং কনের বিজয়কে তুমুল করতালি ও করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।
পরবর্তী সময়ে চিনা গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিনব আয়োজনের নেপথ্য কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল। যেহেতু কুস্তি একটি ঝুঁকিপূর্ণ খেলা, তাই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে এতে সাধারণ মানুষের পরিবর্তে কেবল পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কুস্তিগিরদের অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কুস্তিগির বর হে ইনশেং আরও উল্লেখ করেন, নিজেদের জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি প্রথাগত নাচ-গানের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ বাঁচাতেই তাঁরা মূলত এই অভিনব বুদ্ধি খাটান। চিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের ভিডিও রাতারাতি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভাইরাল হয়ে গেছে। ইন্টারনেটের সাধারণ ব্যবহারকারীরা নবদম্পতির এমন সৃজনশীলতা, রসবোধ এবং নতুন ধারার চিন্তাভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।