খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের জাফরপুরে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন ব্যারাক থেকে এক সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। আজ শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের শীর্ষ তলা থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত বিজিবি সদস্যের নাম আজিজুর রহমান (৪০) এবং তিনি ৬ বিজিবিতে ‘নায়েক’ পদে কর্মরত ছিলেন।
বিজিবি ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নায়েক আজিজুর রহমান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুরে অবস্থিত ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের ব্যারাকে বসবাস করতেন। উক্ত ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা আবাসিক হিসেবে অবস্থান করলেও এর ছয়তলা ভবনটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে সহকর্মীদের নজর এড়িয়ে তিনি ওই ফাঁকা ছয়তলায় গিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
শনিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৬ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে সুরতহাল আইন অনুযায়ী মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। সুরতহাল সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহত বিজিবি সদস্য আজিজুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর এবং তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নায়েক আজিজুর রহমান বেশ কিছু দিন যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার বিষয়ে জানান, বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তগত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হবে।
ঘটনা ও নিহত বিজিবি সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি ও বিবরণ |
| নিহত বিজিবি সদস্যের নাম | আজিজুর রহমান |
| বয়স ও পদবি | ৪০ বছর; নায়েক (৬ বিজিবি) |
| স্থায়ী ঠিকানা | গ্রাম: নিত্যানন্দপুর, উপজেলা: হরিণাকুণ্ডু, জেলা: ঝিনাইদহ। |
| ঘটনাস্থল | চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি), জাফরপুর, চুয়াডাঙ্গা সদর। |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | বিজিবি আবাসিক এলাকার ছয়তলা ভবনের ফাঁকা ছয়তলা। |
| সুরতহাল পরিচালনাকারী | আমিনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। |
| তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা | মো. মিজানুর রহমান (ওসি) এবং শহিদুল ইসলাম (পরিদর্শক, তদন্ত)। |
| ময়নাতদন্তের স্থান | চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গ। |
| প্রাথমিক কারণ (বিজিবি সূত্র) | বেশ কিছুদিন যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। |
| আইনি পদক্ষেপ | ময়নাতদন্ত সম্পন্ন; প্রতিবেদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা হবে। |
আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে বিজিবি সদস্য নায়েক আজিজুর রহমানের মরদেহটি ৬ বিজিবি কর্তৃপক্ষ এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামে অবস্থিত তাঁর নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।