খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আবদুন নূর তুষার। তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির লোক ধরা পড়ল, অথচ কেন্দ্রীয় কমিটিকে অক্ষত রেখে সারা দেশের বৈষম্যবিরোধী সব কমিটি বাতিল করা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়—চোরের দল রেখে দেশের সব কমিটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যারা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ যোদ্ধা ছিল, তারা এখন সমন্বয়কের পরিচয়ে কিস্তিতে চাঁদা তুলে ধরা পড়ছে—এই দৃশ্য দেখতে হলো কেন? এর দায় কার?’ এরপরই তিনি বলেন, ‘চাঁদা তুলছে একজন, দায় নেবে আরেকজন—এটা কি কোনো বিচার হয়? যে চাঁদা তোলে, দায় তার। যেমন চুরি করলে দায় চোরের, গণতন্ত্র লুট করলে দায় লুটেরার, তেমনি চাঁদা তুললে দায়ও তারই। এটি খুবই সরল বিষয়।’
চাঁদাবাজির এই অভিযোগ শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয় বলে দাবি করেন তুষার। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাঠামোকেও এতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। পুলিশকে অন্য থানা থেকে এনে তাদের প্রতিরক্ষা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ এমনি সময় যেতে পারবে, তারা মিটিং করলে যেতে পারবে না। চিঠি দিয়ে বিদ্যুৎ ঠিক রাখতে হচ্ছে—এটাও কি এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া নয়?’
তিনি বলেন, ‘অন্য সব দলকে কি এসব সুবিধা সরকার দিচ্ছে? তারা সরকারের ভেতরেও আছে, সরকারের বাইরেও আছে। এটাও কি এক ধরনের বিশেষ সুবিধা নেওয়া নয়? আমি মনে করি, এটা শুধুমাত্র বরফের উপরিভাগ—এর ১১ ভাগ এখনো ডুবে আছে।’
তুষার আরও বলেন, ‘এই চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন কিছু না। মানুষের ঘরের মধ্যে ঢুকে জুতা-জামা, মূল্যবান জিনিস লুট হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এসব ঘটনার সময় সরকার ও তাদের লোকজন বলেছে, এটা প্রেশার গ্রুপ, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বলেছে, এতদিন নির্যাতনের মধ্যে থাকলে মানুষ তো একটু সেলিব্রেশন করতেই পারে। তো এখন সেই সেলিব্রেশন ৫০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একজন বা চারজন ধরা পড়েছে, তাহলে দোষের কি?’
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা যারা লুট করেছে, তাদের কি রিমান্ডে নেওয়া হয়? তাহলে এই ৫০ লাখ টাকার জন্য এতটা কড়াকড়ি কেন? এটা তো মশা মারতে কামান ব্যবহার করার মতো।’
নিজ দলের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একসময় এই দলই ফেসবুকে অভিযোগ করত—কোথাও ৫০০ বা ১০০০ টাকা চাঁদা তোলা হলে লন্ডন থেকে তারেক রহমান সেটা বন্ধ করবেন। অথচ এখন নিজেদের দলের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারছে না—এটা খুবই হতাশাজনক।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছে, আর এখন সেই ত্যাগের বিনিময়ে নতুন এক লুটেরা সমাজ গড়ে উঠছে। যাদের বয়স এখনো ৩০-৩৫ হয়নি, তারাই এসব করছে—তাহলে ভবিষ্যৎ কী?’
খবরওয়ালা/এন