খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ইউরোপের ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর লড়াই আজ চরম উত্তেজনায় প্রবেশ করছে। এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যেসব দল, তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং ঘরের মাঠের সুবিধা—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন কঠিন এবং অনিশ্চিত।
তুরস্কের গালাতাসারাই ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর প্রথমবার শেষ ষোলোর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এই পর্বে নিয়মিত, সর্বশেষ ৯ মৌসুমে ৮ বারই খেলেছে। তবে শেষ দুই মৌসুমে লিভারপুল শেষ ষোলোতেই বিদায় নিয়েছে।
গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠে ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে রেকর্ড চমকপ্রদ। সর্বশেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি হেরেছে তারা। লিভারপুলও তুরস্কে গিয়েও মাত্র ২ বার হেরেছে এবং একবার ড্র করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:
| দল | শেষ ৯ ম্যাচে ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে ফল | চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর অ্যাওয়ে জয় |
|---|---|---|
| গালাতাসারাই | ১ হারের সঙ্গে ৮ জয়/ড্র | – |
| লিভারপুল | ২ হারের সঙ্গে ১ ড্র | ৯টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জয় |
গালাতাসারাইয়ের ভিক্টর ওসিমেন প্রথম ২৫ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। আফ্রিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে এই পর্যায়ে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল সেরহু গিরাসি (১৮)।
জার্মান ক্লাবের বিপক্ষে আতালান্তার রেকর্ড অসাধারণ; শেষ ৫ ম্যাচের ৪টিতেই জয়। ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম লেগে ২-০ পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
বায়ার্ন মিউনিখ ইতালিয়ান ক্লাবের বিপক্ষে সফল। শেষ ১৬ ম্যাচের ১১টিতে জয় পেয়েছে এবং শেষ ষোলোর পর ১৪ বারের মধ্যে ১৩ বার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন শেষ ৩ নকআউট ম্যাচে ৫ গোল করেছেন এবং মাত্র ২ গোল করলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের হাফ সেঞ্চুরি (৫০ গোল) পূর্ণ করবেন।
গ্রুপ পর্বে বার্সেলোনা সেন্ট জেমস পার্কে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। বার্সেলোনা নকআউট পর্বে ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে শেষ ১৫ দ্বৈরথের ১০টিতে পরের রাউন্ডে উঠেছে।
নিউক্যাসলের ঘরের মাঠে স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে খেলা ৮ ম্যাচের ৫টিতে জয়ী হয়েছে তারা। এছাড়া বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল আজ ৩০তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেলবেন এবং ১৮ বছর ২৪০ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে আতলেতিকো সিমিওনের অধীনে নকআউট রাউন্ডে সফল; শেষ ১৪ দ্বৈরথের ১০টিতে জয়ী। টটেনহামের ইতিহাস স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে সুখকর নয়; পূর্বে চারবার প্রতিপক্ষ পেয়েও প্রতিবার ছিটকে গেছে।
টটেনহামের সাম্প্রতিক ফর্ম আশাব্যঞ্জক; শেষ ৫ ম্যাচে প্রথম গোল করেছে তারা এবং শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতে কোনো গোল হজম হয়নি।
এই বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, শেষ ষোলোর প্রতিটি ম্যাচই সমানভাবে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ফলাফলের দিক থেকে খোলা। ঘরের মাঠের সুবিধা, সাম্প্রতিক ফর্ম, এবং ক্লাব ও খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাউন্ডে দারুণ নাটকীয়তা থাকবে।