খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা। ঘটনাটি সম্প্রতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শামীমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান সুমিল ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পোল্লাকান্দি গ্রামের মাহফুজুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জুবাইদুল ইসলাম শামীম পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী একজন এক সন্তানের মা।
ঘটনাটি ঘটে গত ১ জানুয়ারি রাতের দিকে, যখন শামীম পোল্লাকান্দি গ্রামের মাহফুজুর রহমানের বাড়ির নিজ ঘরে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। স্থানীয়রা শামীমকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে তাকে বাড়িতে বেঁধে রাখা হয়। পরবর্তীতে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গাজী মোস্তাফিজুর রহমান ও বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার কামরুজ্জামান সুজন সমঝোতার মাধ্যমে শামীমকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর মাহফুজুর রহমান তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন এবং শামীমকে তাঁর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করতে বাধ্য করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায় শামীমকে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার পর জুবাইদুল ইসলাম শামীমের প্রতি সমালোচনা তীব্র হয়েছে।
| তারিখ | সংস্থা | ব্যক্তির নাম | নির্দেশনার সময়সীমা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ৬ জানুয়ারি | জামালপুর জেলা ছাত্রদল | জুবাইদুল ইসলাম শামীম | ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে | জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে হবে |
জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান সুমিল বলেন, “শামীমের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতা বা দলের প্রতিনিধি যে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির জন্য জনগণের আস্থা হারাতে পারেন, যা দলের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওজনদার তথ্যের ভিত্তিতে শামীমের পদবী ও দায়িত্ব নিয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ তদন্ত চালানো হচ্ছে।