খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে কার্তিক ১৪৩২ | ২০ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ভণ্ড কবিরাজের কাছে ছোট বোনের ‘জিন ছাড়াতে’ গিয়ে এক গৃহবধূ (১৯) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগীর মা দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত কবিরাজের নাম কুদ্দুস মিয়া (পিরোজপুর, জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন, দেবিদ্বার)। তিনি মৃত আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সকালে ছোট বোনের চিকিৎসার জন্য কুদ্দুস মিয়ার বাড়িতে যান ওই গৃহবধূ। চিকিৎসার একপর্যায়ে নানান কৌশলে কবিরাজ তাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন কুদ্দুস মিয়া।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তিনি একাধিকবার গৃহবধূর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সম্প্রতি আরও টাকা দাবি করলে গৃহবধূ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেন।
গৃহবধূ বলেন, ‘আমি ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম কুদ্দুসের কাছে। চিকিৎসা শুরুর আগে সে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে আমাকে কক্ষে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও দেখিয়ে টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা এনে দিয়েছি, কিন্তু সে বারবার হুমকি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। পরে আমার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইলে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।’
গৃহবধূর মা বলেন, ‘ভণ্ড কবিরাজের প্রতারণায় আমার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
অভিযুক্ত কবিরাজ কুদ্দুস মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাদের এক মেয়ে অসুস্থ ছিল, চিকিৎসা করিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’