খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২৮ এএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত সোমবার র্যাবের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের হাতে ছিনতাই হওয়া চারটি সরকারি পিস্তল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কর্তব্যরত র্যাব কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। বর্তমানে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের দমনে বড় ধরনের যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।
গত সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার শিকার হন র্যাব সদস্যরা। সন্ত্রাসীরা নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং তাঁর সাথে থাকা অন্য তিন সদস্যকে অপহরণ করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় তারা র্যাব সদস্যদের কাছ থেকে চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল ছিনিয়ে নেয়।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়। সোমবার রাতেই বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে একটি জনমানবহীন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় লুণ্ঠিত চারটি পিস্তলই উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনাস্থল | জঙ্গল সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম। |
| নিহত র্যাব কর্মকর্তা | নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ৪টি সরকারি পিস্তল (ছিনতাই হওয়া)। |
| গ্রেপ্তার/আটক | নুরুল আলম মনা (আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ও পুলিশি হেফাজতে)। |
| অভিযান পরিকল্পনা | পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ সাঁড়াশি অভিযান। |
| মামলার অবস্থা | হত্যা ও অস্ত্র লুটের পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন। |
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও এখনো বড় কোনো অভিযান শুরু হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে যৌথ বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান শুরু হতে পারে।
ইতিমধ্যে নুরুল আলম মনা নামে এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। সে বর্তমানে কড়া পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। মনার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র এবং হত্যা মামলা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হামলার মূল হোতাদের হদিস পাওয়া যাবে।
র্যাব কর্মকর্তার নিহতের ঘটনায় সীতাকুণ্ডের স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে এই ঘটনায় কোনো কোনো মহলে বিএনপির নাম জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি একে ভিত্তিহীন দাবি করে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের রুখতে সকল রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরের মতো দুর্গম এলাকায় সরকারি বাহিনীর ওপর এমন দুঃসাহসিক হামলা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে আতঙ্ক দূর হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই অপরাধী চক্রের মূল উৎপাটন সম্ভব।
মন্তব্য