খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। সারা দেশে ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ও উন্মুখতা যেমন বেড়েছে, তেমনি নিরাপত্তা এবং সহিংসতার ভীতি আরও জোরদার হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৫৩ দিনে দেশব্যাপী মোট ২৭৪টি সহিংসতা ঘটেছে, যা ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোটের আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু একইসাথে ভীতি ও উৎকণ্ঠাও বিরাজ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সঠিক না হলে সাধারণ নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ—স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।
সর্বশেষ সরকারী ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার প্রকৃতি ও সংখ্যা নিম্নরূপ:
| সহিংসতার ধরন | ঘটনা সংখ্যা |
|---|---|
| ভীতি প্রদর্শন/আক্রমণাত্মক আচরণ | ১৬ |
| প্রার্থীর ওপর হামলা | ১৫ |
| হত্যাকাণ্ড | ৫ |
| প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ | ৮৯ |
| অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার | ৩ |
| হুমকি/ভয়ভীতি প্রদর্শন | ৯ |
| প্রচারে বাধা | ২৯ |
| নির্বাচন অফিসে হামলা/ভাঙচুর/অগ্নিসংযোগ | ২০ |
| অবরোধ ও বিক্ষোভ | ১৭ |
| সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা | ১ |
| অন্যান্য সহিংসতা | ৭০ |
পূর্ববর্তী নির্বাচনে সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক ছিল।
দশম সংসদ (২০১৩-১৪): ৫৩০ ঘটনা, ১১৫ নিহত, ৩১৫ আহত
একাদশ সংসদ (২০১৮-১৯): ৪১৪ ঘটনা, ২২ নিহত, ৭৮০ আহত
দ্বাদশ সংসদ (২০২৩-২৪): ৫৩৪ ঘটনা, ৬ নিহত, ৪৬০ আহত
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, নির্বাচনের আগের মাসে সহিংসতা আরও তীব্র হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ১৮টি ঘটনা, ৪ নিহত এবং ২৬৮ আহত হলেও, জানুয়ারি ২০২৬-এ ৭৫টি ঘটনা, ১১ নিহত এবং ৬১৬ আহত হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণার শুরু ২২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ দিনে ৪৯টি সহিংসতা ঘটেছে, যেখানে ৪ নিহত এবং ৪১৪ আহত হয়েছে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিতর্ক উঠেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন, র্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন পরিবর্তন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সেনাবাহিনী ভোটারের প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং ভোটারদের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে এবং স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, সেটিই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।