খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোতে গতিশীলতা আনয়ন এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ পেশাজীবীদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, প্রধানমন্ত্রী ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩ (বি) ধারায় প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত এই উপদেষ্টাদের মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রী পদমর্যাদায় এবং বাকি পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা অবিলম্বে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা পর্ষদে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। নিচে তাঁদের নামের তালিকা ও পদমর্যাদা তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | পদমর্যাদা | পরিচিতি/বিশেষজ্ঞতা |
| ০১ | মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ | মন্ত্রী | জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী |
| ০২ | নজরুল ইসলাম খান | মন্ত্রী | শ্রমিক নেতা ও অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারক |
| ০৩ | রুহুল কবির রিজভী আহমেদ | মন্ত্রী | জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠক |
| ০৪ | মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ | মন্ত্রী | সাবেক আমলা ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ |
| ০৫ | ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর | মন্ত্রী | বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ |
| ০৬ | হুমায়ুন কবির | প্রতিমন্ত্রী | কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক |
| ০৭ | ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম | প্রতিমন্ত্রী | নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ |
| ০৮ | ডা. জাহেদুর রহমান | প্রতিমন্ত্রী | জনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশ্লেষক |
| ০৯ | ড. মাহদী আমিন | প্রতিমন্ত্রী | কৌশলগত যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক গবেষক |
| ১০ | রেহান আসিফ আসাদ | প্রতিমন্ত্রী | তরুণ চিন্তাবিদ ও গবেষক |
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এমন একটি দক্ষ উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতো অর্থনীতিবিদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ করা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গবেষণায় তরুণ মেধাবী ড. মাহদী আমিনকে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী একটি ভারসাম্যপূর্ণ টিম গঠনের চেষ্টা করেছেন। এই পর্ষদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারণী পরামর্শ এবং বিশেষ প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সেক্টরভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত উপদেষ্টাগণ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যেকোনো জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবেন। এই উপদেষ্টা পর্ষদ গঠনের ফলে সরকারি কর্মকাণ্ডে পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।