খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড এবং সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। তার মতে, দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানকে তোয়াক্কা না করার এই সংস্কৃতি যদি এখনই বন্ধ করা না হয়, তবে তা ভবিষ্যতে ভয়াবহ নজির হয়ে থাকবে।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’-এ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি দুই পর্বের বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানের অনেক বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন মাসুদ কামাল। গতকাল মঙ্গলবার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’-তে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মাসুদ কামাল বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই নিজেদের একটি সাংবিধানিক সরকার হিসেবে দাবি করে এসেছে। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধান রক্ষা ও সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলেন। অথচ খোদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী তারা সেই সংবিধানই পদদলিত করেছেন। এটি কেবল শপথ ভঙ্গ নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনের অবমাননা।”
মাসুদ কামালের মতে, গত ১৮ মাসের শাসনামলে যেখানেই সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার জন্য উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। তিনি মনে করেন, যদি এই লঙ্ঘনের বিচার না হয়, তবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই বার্তা যাবে যে—যেকোনো সরকার চাইলেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করতে পারে।
নিচে মাসুদ কামালের বক্তব্যের মূল নির্যাস এবং সাংবিধানিক সংকটের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | মাসুদ কামালের পর্যবেক্ষণ ও দাবি |
| মূল অভিযোগ | সংবিধানের বিধান অমান্য করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। |
| তথ্যের উৎস | রাষ্ট্রপতির দেওয়া দুই পর্বের বিশেষ সাক্ষাৎকার। |
| আইনি অবস্থান | প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করা। |
| উপদেষ্টাদের ভূমিকা | ১৮ মাসে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের শাস্তি প্রদান। |
| ভবিষ্যৎ শঙ্কা | বিচার না হলে এটি একটি ‘মন্দ উদাহরণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। |
মাসুদ কামাল তাঁর আলোচনায় একটি সাহসী সাক্ষাৎকার প্রকাশের জন্য কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানান। তিনি মনে করেন, সত্য উদঘাটনে সংবাদপত্রের এমন ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার চেয়ারে বসে কেউ যদি মনে করেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে, তবে সেটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের কার্যক্রমের আইনি বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোতে সংবিধানের কোন কোন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে, তা নিয়ে এখন বিস্তারিত চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
পরিশেষে, সাংবাদিক মাসুদ কামাল জোর দিয়ে বলেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্র যদি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করবে।