খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে মিরপুর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের জোটবদ্ধ প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরও সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বড় ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত এবং সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিজিবি সদর দপ্তরের বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। তারা মূলত পুলিশের সহযোগী বাহিনী হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
মিরপুর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:
| নিরাপত্তার ক্ষেত্র | গৃহীত ব্যবস্থা ও বিস্তারিত তথ্য |
| মোতায়েনকৃত বাহিনী | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও র্যাব। |
| নির্দিষ্ট এলাকা | মিরপুর-১০, আদর্শ স্কুল মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা। |
| মূল উদ্দেশ্য | নির্বাচনী জনসভায় সহিংসতা রোধ ও জানমালের নিরাপত্তা। |
| কৌশলগত অবস্থান | গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট ও ভ্রাম্যমাণ টহল। |
| নির্দেশনা | যেকোনো ধরনের নাশকতা বা উস্কানি কঠোরভাবে দমন। |
মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে শুরু করে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জনসভাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিরপুরে সমবেত হওয়ায় যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়। তবে বিজিবি মোতায়েনের পর এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। মিরপুরের বাসিন্দারা মনে করছেন, বিজিবির উপস্থিতি থাকলে সংঘাতের আশঙ্কা কমে যায় এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে বা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। মিরপুরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে বহিরাগত কেউ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজধানীর মিরপুরে বিজিবি মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষে এই ধরণের আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতার পরিচয় দেবে এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিরপেক্ষমূলক অবস্থানের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে।