খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
জয়পুরহাটে দুই লাখ টাকা ছিনতাই করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পালাচ্ছিলেন দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দুই দুর্বৃত্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক সড়কের মাটিঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঐদিন রাতে জয়পুরহাট থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী মাহফুজ ইসলাম। এ মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার উকিলপাড়ার বাসিন্দা শাকিল হোসেন (৩৯) ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের দক্ষিণ ভাঙা মোড় এলাকার বাসিন্দা সাজু মিয়া (৪০)।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজ জয়পুরহাট সদরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা জেলা সদরের একটি ব্যাংকে নিয়ে যান।
সেখানে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা জমা দিয়ে অবশিষ্ট দুই লাখ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। বেলা দেড়টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার সামনে পৌঁছালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। ওই অটোরিকশার চালক মাহফুজকে কাছে ডেকে নিয়ে জানতে চান বিদেশি নোট কোথায় ভাঙানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে আরেক ব্যক্তি নেমে মাহফুজের সামনে চাকু নিয়ে হাজির হয়।
পরে তাকে ভয় দেখিয়ে দুই লাখ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত অটোরিকশা নিয়ে ক্ষেতলালের দিকে চলে যায়। এ সময় তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসেন।
পরে পুলিশকে জানিয়ে মাহফুজসহ কয়েকজন মিলে মোটরসাইকেলে ওই অটোরিকশার পিছু নেন।
বেলা আড়াইটার দিকে অটোরিকশাটি জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের মাটির ঘর এলাকায় পৌঁছায়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় তখন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অটোরিকশাটিকে থামানো হয়। এ সময় ওই দুইজনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, মুঠোফোন ও অটোরিকশাটি জব্দ করে ক্ষেতলাল থানায় নেওয়া হয়।
ইমরান হোসেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ছিনতাইকারীরা দ্রুতগতিতে অটোরিকশা নিয়ে ছুটে চলছিল। কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে লোকজনও অটোরিকশাটিকে ধাওয়া করেছে। অটোরিকশা ছুটছে, পেছনে মোটরসাইকেলও ছুটছে, সাধারণত সিনেমায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ক্ষেতলাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কোরবান আলী বলেন, দুই ছিনতাইকারীর কাছে ওমানের মুদ্রাও ছিল। এরপর তাদের জয়পুরহাট থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। আজ তাদের আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ