মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর বাজারে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা বিকল্প মহাসড়ক বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। স্বল্পমাত্রার বৃষ্টিতেই দুইপাশের সড়কে পানি জমে চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় নাকাল হলেও এখনও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বড়সংখ্যক পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীরা কাঠের সাঁকো বা ব্লক বসিয়ে অস্থায়ীভাবে পথ চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, চত্বর এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বাজার সম্প্রসারণের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা কেবল চলাচলে বিঘ্নই সৃষ্টি করছে না, বরং কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা বাইপাস মহাসড়কের নির্মাণকাজ ২০০৪ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়। মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হলেও চত্বরের ভাটি অংশ উঁচু হওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয় না। সেই সঙ্গে চত্বরের চারপাশে মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভাসমান দোকান স্থাপনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না।
চত্বরের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে নির্মিত ফুটপাত ভেঙে পরিবহন শ্রমিকরা শত শত যানবাহন রাখার ফলে পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। পথচারী গৌছ মিয়া বলেন, “স্বল্পমাত্রার বৃষ্টিতেই চলাচল অচল হয়ে পড়ে। এখন ঈদের মৌসুমে নারী-পুরুষ, শিশুদের চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়ছে।”
শেরপুর বাজার বাসস্ট্যান্ডের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর খান জানান, শেরপুর বাজার এলাকার অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে জলাবদ্ধতা প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “শেরপুর বাজার বাসস্ট্যান্ডটি সিলেট বিভাগের অন্তত তিন থেকে চারটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। যদি এখানে একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।”
মার্কেট মালিক সৈয়দ লিয়াকত আলী বলেন, “গত বছরও মহাসড়কের সিঙ্গেল লেন প্রকল্পের সহযোগিতায় কিছু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও দুর্দশাগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।”
মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ জানান, “মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের ওই অংশ সিলেট-ঢাকা করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়। করিডোর প্রকল্পের দায়িত্বশীলদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য জানানো হবে।”
সড়কের তথ্য সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সড়ক | সিলেট-ঢাকা বিকল্প মহাসড়ক |
| সমস্যাজনক এলাকা | শেরপুর বাজার, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর |
| নির্মাণ সম্পন্ন | ২০০৪ সালের শেষদিকে |
| মূল কারণ | অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, মার্কেট ও ভাসমান দোকান |
| প্রভাবিত যানবাহন | দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মিনিবাস, স্থানীয় যানবাহন |
| ক্ষতি | সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, চলাচলে বিঘ্ন, ব্যবসায় ক্ষতি |
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা আসার আগে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ না হলে প্রতিবার বৃষ্টিতেই মুক্তিযোদ্ধা চত্বর অচল হয়ে পড়বে।