এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও বিশ্ব রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলায় পরিবারের স্নেহধন্য হয়ে পরিচিত ছিলেন ‘খোকা’ নামে। ১৯২৭ সালে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হলেও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বহিষ্কৃত হন।
রাজনীতিতে তার পদচারণা শুরু হয় ১৯৩৯ সালে, স্কুলজীবনেই। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের পর তিনি প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৩ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালে প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাড়ে ১১ বছর কারাবরণ করেন—ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন এবং পাকিস্তান আমলে ১৮ বার।
১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সমাবেশে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর পূর্ববাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দেন—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” ২৫ মার্চ গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো হয়। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে এক ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। শুধু দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার প্রতিটি শিকড়ে আজও অম্লান বঙ্গবন্ধুর অবদান, ত্যাগ ও নেতৃত্ব। তিনি শুধু একজন নেতা নন, তিনি একটি জাতির প্রতীক, মুক্তির দিশারী।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড