খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 20শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক হিসেবে একজন স্বঘোষিত সমকামী কূটনীতিককে নিয়োগ এবং ঢাকায় জাতিসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া—এই দুইটি বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা, গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মুসলিমপ্রধান দেশ। এ দেশের সংবিধান, সমাজ, সংস্কৃতি ও আইন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক শালীনতার ভিত্তিতে গঠিত। ইসলাম ও মুসলিম জনমানস সমকামিতাকে একটি জঘন্য অপরাধ ও অগ্রহণযোগ্য বিকৃতি হিসেবে গণ্য করে। জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা কীভাবে এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ দেশের জন্য এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারে—তা আমাদের বোধগম্য নয়।
তারা বলেন, বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়—প্রথমে ঢাকায় একটি ‘মানবাধিকার কার্যালয়’ স্থাপনের জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়, এরপর দূত হিসেবে এমন একজন আত্মঘোষিত সমকামীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ ধরনের ধারাবাহিকতা আমাদের মনে ঘনীভূত ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা জাগায়, যা দেশের ঈমানি চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছি।
জাতিসংঘ অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বাংলাদেশের বাস্তবতা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য কাউকে আবাসিক সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
বাংলাদেশ সরকার এই অ্যাগ্রিমো অনতিবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করুক। অন্যথায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
জাতিসংঘের ঢাকাস্থ তথাকথিত মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন পুনর্বিবেচনা করে বাতিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, জাতিসংঘের বিতর্কিত দূত নিয়োগ এবং মানবাধিকার কার্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিত—এই দুইটি পদক্ষেপ বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক কাঠামো ও সাংস্কৃতিক স্বার্বভৌমত্বের ওপর এক যুগপৎ আঘাত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। আমরা এই বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থ, ঈমানি দায়িত্ব ও উম্মাহর চেতনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছি এবং সকল ইসলামপ্রিয় জনতাকে এ বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কূটনীতিক রিচার্ড এস হাওয়ার্ড একজন স্বঘোষিত সমকামী। সর্বশেষ পাপুয়া নিউগিনিতে কর্মরত জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বাংলাদেশে নতুন দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্বজুড়ে সমকামিতার প্রসারে এটিই জাতিসংগঘের গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ নয় যদিও।
তবে, আন্তর্জাতিক এলজিবিটিকিউ+ গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল এবং এই মতাদর্শে সম্মতিজ্ঞাপনকারী হিসেবে বহু বছর ধরে স্বীকৃত ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আপত্তির কথা জানাননি। এদিকে, তার আদর্শিক অবস্থান প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দেরও কোনো আপত্তির কথা শোনা যায়নি। বরং ইতোপূর্বে দেখা গেছে, ড. ইউনূসের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে মামুনুল হকের।
খবরওয়ালা/এসআর