খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সংবিধানের চার মূলনীতি বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ দিনের বৈঠক বর্জন করেছে বাম ঘরানার চারটি রাজনৈতিক দল।
দলগুলো হলো—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাসদ, বাসদ এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী)।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ২৩তম তথা শেষ দিনের আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলগুলো।
কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়: “সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির কথা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ থাকবে।”
এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানের চারটি মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা উল্লেখ না থাকায় বাম দলগুলো আপত্তি জানায় এবং সভা ত্যাগ করে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) বলেন, “শেষ মুহূর্তে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তড়িঘড়ি করে পাশ করানোর চেষ্টা থেকেই কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবিধানের চার মূলনীতি ছাড়া এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, “ঐকমত্য সনদে স্বাক্ষর দেব কি না, তা দলীয়ভাবে এবং জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা মাসুদ রানা বলেন, “সংবিধানের মূলনীতি বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকার করা। আমাদের প্রস্তাব ছিল, নতুন বিষয় যুক্ত হোক, তবে মূলনীতি বাদ না দিয়ে।”
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “১৯৭১ সালে যারা পরাজিত হয়েছিল, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে এসে নতুন নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।”
বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশতাক হোসেন বলেন, “এই অবস্থায় প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে থেকেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা দায়মুক্ত হতে পারব না।”
সভা বর্জনের ঘটনায় ঐকমত্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। বাম দলগুলো এখনও ঐকমত্য সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, দলীয় ফোরামে এবং জনগণের মতামত নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
খবরওয়ালা/আশ